রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালাতৃণমূল ছাড়তেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালা। ডোমজুড় বিধানসভা ক্ষেত্রের বাঁকড়া ৩ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনৈক ব্যক্তি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি হোর্ডিংয়ে জুতো দিয়ে মারছেন। সেখানে উপস্থিত আরও দুই ব্যক্তি তাকে উৎসাহ দিচ্ছে জুতো মারার কাজে। দল ছাড়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঘৃণার বহিঃ প্রকাশ ঘটলো তারই নির্বাচনী এলাকায়। পরে দেখা যায় জুতোর মালা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছবি আপলোড করা হয়েছে। জেলা রাজনীতিতে তার ওপর গোষ্ঠীর মদতেই এই ধরণের কাজ হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। যদিও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজীবের ছবিতে জুতোর মালা
প্রসঙ্গত শুক্রবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সকালে বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বিকেলে দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তৃণমূলনেত্রীকে পাঠিয়ে দেন পদত্যাগ পত্র। দলের সঙ্গে গত কয়েকমাস ধরেই রাজীবের দূরত্ব বাড়ছিল। সেই ফাটল যে মেরামতির বাইরে চলে যাচ্ছে তাও ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছিল। এই আবহে গত ২২ জানুয়ারি মন্ত্রিত্ব থেকে রাজীবের পদত্যাগ নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছিল। তিনি কি শুভেন্দু অধিকারীর পথেই হাঁটবেন সেই প্রশ্নও বারবার উঠছিল। ঘটনাপ্রবাহ যেদিকে এগোচ্ছে তাতে সেই সম্ভাবনা ক্রমেই উজ্জ্বল হচ্ছে।
আরও পড়ুন, 'মানুষের সেবাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি', বিধায়ক পদ ছেড়ে আবেগঘন পোস্ট রাজীবের
জানা যাচ্ছে রাজীব যখন ইস্তফা দেন সেই সময়ে কালীঘাটে কোর কমিটির বৈঠক করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইমেইল মারফত পাঠান ইস্তফাপত্রে রাজীব লেখেন, দলে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তিনি নেত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। এদিন তৃণমূল ভবনেও ইস্তফাপত্র পাঠান রাজীব। একেবারে শুভেন্দুর পথেই এগোলেন রাজীব।
শুক্রবার তৃণমূল ত্যাগ রাজীবের
ফেসবুক পোস্টে রাজীব লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ১০ বছরে যা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ডোমজুড়ের মাষকে ধন্যবাদ। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনাদের পাশে থাকবো এবং আপনাদের ও বাংলার উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। আমার বিধানসভার সমস্ত কর্মী ও সবাইকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।'