বাম-কংগ্রেস জোটআজ দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা ভোট নিয়ে আলোচনা করবে দলের হাইকমান্ড। এই বৈঠকে মূলত বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা হবে জানা যাচ্ছে।
আসলে পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েকটি ভোটে বাম এবং কংগ্রেস একসঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যদিও ২০২৬ ভোটের আগে এখনও এই বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে প্রদেশ কংগ্রেস। তারা হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আর আজকের বৈঠকে বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরই জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে সঠিক করে কিছু জানাবে।
প্রদেশ কংগ্রেসে অন্য হাওয়া বইছে
বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চিরকালই একটা বিপরীত স্রোত বয়ে এসেছে। তবে তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর তীব্র তৃণমূল বিরোধীতার লাইনের জন্য জোট হয়েছে। কিন্তু তাতে যে ভোটে খুব একটা যে ভাল ফল হয়েছে, এমনটা নয়। বরং এই জোটের জন্য দলের আদতে ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করে এসেছেন দলের একটা অংশ।
বর্তমানে অবশ্য প্রদেশ কংগ্রেসের গাড়ির চালকের আসনে বসেছেন শুভঙ্কর সরকার। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরই সমীকরণ বদলেছে দলের অন্দরে। এমনকী জোট নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
তিনি বারবারই জানিয়েছেন যে সবার আগে তিনি কংগ্রেসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান। দল যাতে সব আসেনে শক্তিশালী হয়, সেটাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। জোট হবে কি হবে না, সেটা অনেক পরের প্রশ্ন।
আর তাঁর এই কথাতেই অন্য গন্ধ পেয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, অধীরের মতো শুভঙ্কর জোটের জন্য অল আউট যেতে রাজি নন। আর বিশ্লেষকদের এই দাবিকে মান্যতা দিয়েছে সিপিআইএম নেতৃত্বও। তাদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে যে বামেরা জোট চাইছে। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে কোনও বার্তা নেই। এমনকী এই বিষয়টা নিয়ে কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তার পাল্টাও খেয়েছেন সেলিম। তাঁকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি কংগ্রেসের তাবড় নেতারা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে হাই কমান্ড। সেখানে কথা হবে ২০২৬ সালের ভোটে বামেদের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গ বলে খবর। তারপর আশা করা যায় গোটা চিত্রটা সামনে চলে আসবে। তাই আর কিছুটা সময় অপেক্ষা তো অবশ্যই করতে হবে।