scorecardresearch
 

ফ্যাক্ট চেক: কাতারে ২০০ কিমি ম্যারাথনে প্রথম হয়ে গিনিস বুকে নাম তুললেন সুফিয়া সুফি? আসল ঘটনা কী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, দাবি করা হচ্ছে, সুফিয়া সুফি নামের এই মহিলা কাতারের একটি ম্যারাথনে ২০০ কিমি দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন। যে কারণে তাঁর নাম গিনিসের রেকর্ড বুকে উঠেছে। 

কাতারে ২০০ কিমি ম্যারাথনে প্রথম হয়ে গিনিস বুকে নাম তুললেন সুফিয়া সুফি? আসল ঘটনা কী? কাতারে ২০০ কিমি ম্যারাথনে প্রথম হয়ে গিনিস বুকে নাম তুললেন সুফিয়া সুফি? আসল ঘটনা কী?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুফিয়া সুফি নামের এক মহিলাকে নিয়ে বেশ কিছু পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে। এই পোস্টগুলির মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, সুফিয়া সুফি নামের এই মহিলা কাতারের একটি ম্যারাথনে ২০০ কিমি দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন। যে কারণে তাঁর নাম গিনিসের রেকর্ড বুকে উঠেছে। 

উদাহরণস্বরূপ, একটি ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, "ম্যারাথন দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে নাম তুললেন ভারতের গর্ব সুফিয়া_সুফি। পৃথিবীর বুকে দেশের নাম উজ্জ্বল করে তুলেছে। সম্প্রতি কাতারে এক ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা হয়, টানা ৩০ ঘন্টা ৩৪ মিনিট দৌড়ে প্রথম হন ভারতীয় এই দৌড়বিদ। অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই দেশের গর্ব, দেশের অহংকার, সুফিয়া সুফিকে। তিনি গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬.১৬ মিনিটে দৌড় শুরু করে শুক্রবার দুপুর ১২.৫০ এ দৌড় শেষ করেন। এ সময় তিনি ২০০ কিমি. দৌড়ান। গিনেস বুকের হিসেবে এটি একটি বিশ্বরেকর্ড।"

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক টিম অনুসন্ধান করে দেখেছে যে পোস্টটি বিভ্রান্তিকর। কোনও ম্যারাথনে প্রথম হয়ে নয়, বরং একাই দৌড়ে কাতার পেরনোর জন্য এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সুফি।

আফয়া অনুসন্ধান

কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে সবার প্রথম আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি যে সুফিয়া ঠিক কী কৃতিত্ব গড়েছেন যে কারণে তাঁর নাম গিনিস বুকে উঠেছে। সার্চ করে আমরা সৌদি আরবের গাল্ফ টাইমসের একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই যা গত ১৩ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুফিয়া নাকি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাতারের দক্ষিণ থেকে উত্তর প্রান্তে পৌঁছন। 

সেখানে আরও লেখা হয়, সুফিয়া প্রাথমিকভাবে ৩৫ ঘণ্টায় এই লক্ষ্য পূরণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু ৩০ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে তিনি এই কাজটি করেন। যদিও গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদনে এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি যেখানে উল্লেখ করা হয় যে সুফিয়া কোনও ম্যারাথনে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। 

সেই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আরও জানতে পারি যে, এর আগেও একাধিকবার গিনিস রেকর্ড বুকে নাম তুলেছেন। এর পাশাপাশি সুফিয়ার দৌড়ের একটি ভিডিয়োও আমরা দেখতে পাই। এই ভিডিয়োতে সুফিয়াকে জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে দৌড়তে ও দৌড় শেষ করতে দেখা যায়। এই ভিডিয়ো দেখে পরিষ্কার হয়ে যায় যে সুফিয়া একাই দৌড়চ্ছিলেন। 

আরও নিশ্চিত হতে আমরা গিনিস বুকের ওয়েবসাইট খতিয়ে দেখি ও খুঁজে বের করার করি ঠিক কী কারণে সুফিয়ার নাম রেকর্ড বইতে শামিল হয়েছে। গিনিস বুকের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয় যে, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি সুফিয়া দ্রুততম মহিলা হিসেবে কাতার ক্রস করেন। তিনি মোট ১ দিন ৬ ঘণ্টা ৩১ মিনিট সময় নেন। যদিও তিনি কত কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে এখানে কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। 

সুধু তাই নয়, ২০২১ সালেও সুফিয়ার নাম গিনিস বুকে উঠেছিল যখন তিনি ১১০ দিন, ২৩ ঘণ্টা ও ২৪ মিনিটে দ্রুততম সময়ে পায়ে দৌড়ে/হেঁটে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পাড়ি দেন। 

সুতরাং, ভাইরাল হওয়া পোস্টের তথ্য যে অর্ধসত্য, তা এর থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। 

ফ্যাক্ট চেক

facebook pages

দাবি

ভারতীয় দৌড়বিদ সুফিয়া সুফি কাতারে আয়োজিত ম্যারাথনে ২০০ কিলোমিটার দ্রুততম দৌড়ে গিনিস বুকে নাম তুলেছেন।

ফলাফল

সুফিয়া কোনও ম্যারাথনে অংশ নেননি। তিনি একক কৃতিত্ব অর্জনের লক্ষ্যে ৩০ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে কাতারের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছে রেকর্ড বইতে নাম তোলেন।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
facebook pages
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদের সংখ্যা 73 7000 7000 উপর পাঠান.
আপনি আমাদের factcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন