
তারাপীঠের হোটেলে ঠিক যেভাবে ৯ জনের বেঘোরে প্রাণ গেল, ঠিক একদিন পরেই একই ভাবে হোটেলে আগুন লেগে মৃত্যু হল ৯ জনের। এ বার কলকাতার একেবারে প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট চত্বরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনা। মির্জা গালিব স্ট্রিটে ঘিঞ্জি এলাকায় মঙ্গলবার মাঝরাতে আগুন লেগে মৃত্যু হল ৬ জন পুরুষ, দুজন মহিলা ও এক শিশুর। প্রত্যেকেই বাংলাদেশের বাসিন্দা। সকলেরই প্রাণ গিয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। আগুনে পুড়ে নয়।

মঙ্গলবার মাঝরাতে ২টো নাগাদ ওই হোটেলের ৩ তলায় আগুন লাগে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, একটি ৫ তলা বাড়িতে একাধিক হোটেল বেআইনি ভাবে চলছে। এটা শুধু একটি বিল্ডিং নয়, মির্জা গালিব স্ট্রিটে এই রকম বহু বিল্ডিং রয়েছে, যা আসলে জতুগৃহ। অথচ পাশেই দমকলের হেডঅফিস।

এখনও পর্যন্ত খবর, ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে। রাতেই দমকল সবাইকে উদ্ধার করলেও সবাইকে বাঁচানো যায়নি। ৯ জন অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। আহত হয়েছেন ছয় জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে যখন সকলে ঘুমোচ্ছিলেন, তখন আগুন লাগে।

অনেক আবাসিকই হোটেলের ঘরে আটকে পড়েন। ওই বহুতলে ঢোকা এবং বেরনোর পথ একটাই। সেটাও সঙ্কীর্ণ। আবাসিকদের দাবি, হোটেলে কোনও আপৎকালীন নির্গমন দরজা ছিল না। কেউ কেউ প্রাণে বাঁচতে টয়লেটে ঢুকে পড়েন। সেখানকার জানলা ভেঙে বার হওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।

কয়েক জনের শরীরে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পরই নিশ্চিত হবে। আরও কয়েক জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা চলছে। বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পার্টির ফান্ডের জন্য দেদার বেআইনি নির্মাণ করিয়েছে এই এলাকায়। বেশির ভাগ ফ্ল্যাটেই বাংলাদেশিরা হোটেল চালাচ্ছে। মালিকও তারাই। একটি বিল্ডিংয়ে একাধিক হোটেল চলছে। তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা প্রাথমিক ভাবে সব জানিয়েছি। উনি আসবেন। তদন্ত শুধু এখানে নয়, গোটা কলকাতাতেই হবে। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরকার কড়া অ্যাকশন নেবে।'

ম্যানেজারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু হোটেল মালিকের এখনও খোঁজ মেলেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ২টো নাগাদ নিউ মার্কেট থানায় ১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিকা ইন হোটেলে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। একই সঙ্গে দমকল এবং সিইএসসি-কে খবর দেওয়া হয়।

ফ্রি স্কুল স্ট্রিট দমকল কেন্দ্র এবং ফায়ার ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার্স থেকে চারটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে অভিযান। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের চেষ্টায় হোটেলের ভিতর থেকে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন ৯ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণের কাজ শেষ হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।