
নিউ আলিপুর সুরুচি সঙ্ঘ কলকাতার বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এই পুজো তত্কালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো নামেই খ্যাত ছিল।

বিরাট বাজেটের পুজো। পালা বদলের পরে এ বারে সেই সুরুচি সঙ্ঘের পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার। এবারে ওই পুজোর থিম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

সৌরভ সিকদারের বক্তব্য, বাঙালিকে যে ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা দুর্গাপুজোর মাধ্যমে ফের জানানোই উদ্দেশ্য। সুরুচি সঙ্ঘের এই থিম নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস ও বামেদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোকে গেরুয়াকরণ করা হচ্ছে। বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে বিজেপি।

২০২৬ সালে সুরুচি সঙ্ঘের পুজো ৭৩ বছরে পদার্পণ করল। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতার জীবন ও অবদানকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এ বারের পুজোর থিম।

তবে এই ভাবনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির এই উদ্যোগকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর গেরুয়াকরণ বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মন্ত্রী, হিন্দুত্ববাদী নেতা এবং ভারতের গণপরিষদের সদস্য। তিনি ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার পাশাপাশি অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতিও ছিলেন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের প্রেক্ষাপটে বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরতে চেয়েছে সুরুচি সঙ্ঘ পুজো কমিটি। বিজেপি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের অন্যতম রূপকার হিসেবে অভিহিত করে।

শিল্পী অনির্বাণ দাস জানিয়েছেন, মণ্ডপে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ফাইবারের মূর্তি রয়েছে। খড় বেঁধে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সরু লোহার রড ঝালাই করে তৈরি হচ্ছে নানা কারুকার্য। পাশাপাশি লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে মণ্ডপের একটি অংশে শ্যামাপ্রসাদের মুখের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সুরুচি সঙ্ঘের সম্পাদক তথা বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের দাবি, বাংলার ইতিহাসের যে অধ্যায়গুলি মানুষের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি, এই থিমের মাধ্যমে সেগুলি তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকত কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠত। এই ইতিহাস সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে চান তাঁরা।

কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরীর অভিযোগ, বাংলার সংস্কৃতিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, শাসকদলের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর রং ও থিম বদলে যাওয়াকে কোনও স্থায়ী সাংস্কৃতিক নীতি হিসেবে দেখা যায় না।