scorecardresearch
 
 

PF-এর টাকা তুলে বাড়ির নীচেই চিকিৎসাকেন্দ্র! কামালগাজীতে উজ্জ্বল উদাহরণ

এক ব্যক্তি নিজের পিএফ-এর টাকা তুলে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলেছেন ছোটখাটো চিকিৎসাকেন্দ্র। হাসপাতালে জায়গা না পেলে যাতে সেখানে কিছুক্ষণের জন্য় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তাই এই উদ্যোগ।

জাহির হোসেন মণ্ডল (বাঁদিকে), তাঁর তৈরি চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী জাহির হোসেন মণ্ডল (বাঁদিকে), তাঁর তৈরি চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী
হাইলাইটস
  • করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তো নাজেহাল করে দিয়েছে দেশকে
  • রোগীর মৃত্যু, সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে
  • আর তা ভারী হয়ে যাচ্ছে মন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তো নাজেহাল করে দিয়েছে দেশকে। রোগীর মৃত্যু, সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। আর তা ভারী হয়ে যাচ্ছে মন। তবে এর মাঝে অনেক খবর আশার আলো জোগাচ্ছে। সবাইকে বল জোগাচ্ছে।

কখনও কোনও চিত্রঅভিনেতা বিদেশ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করছেন। আবার কখনও বা একঝাঁক তরুণতরুণী নেমে পড়েছেন। তাঁরা করোনা আক্রান্ত রোগী, তাঁর পরিবারকে সাহায্য করার জন্য রাত দিন এক করে তারা সে কাজ করে চলেছেন।

এমন একটা উজ্জ্বল উদাহরণ কলকাতার কামালগাজীতেও রয়েছে। যেখানে এক ব্যক্তি নিজের পিএফ-এর টাকা তুলে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলেছেন ছোটখাটো চিকিৎসাকেন্দ্র। হাসপাতালে জায়গা না পেলে যাতে সেখানে কিছুক্ষণের জন্য় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তাই এই উদ্যোগ।

আরও পড়ুন: পুজোমণ্ডপ এখন সেফ হোম! পথ দেখাল কলকাতার গল্ফ ক্লাব রোড

রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোর উপর চাপ বাড়ছে। ওষুধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে শুরু করে সব চিকিৎসা সামগ্রীতে টানাটানি পড়েছে যেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলেই যে কেউ শয্য়া পাবেন, তার নিশ্চয়তা নেই।

কারণ করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। অক্সিজেন লাগবে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, অথচ শয্যা নেই, সেই সময়টুকু যাতে সামাল দেওয়া যায়,তাই এই উদ্যোগ। বাড়িতেই এই পরিষেবা শুরু করে দিয়েছেন জাহির হোসেন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি।

তিনি বহুজাতি সংস্থার কর্মী। বাড়ির নীচে ৮০ স্কোয়ার ফুট জায়গায় চলছে ছোট ওই চিকিৎসাকেন্দ্র। নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে টাকা তুলেছিলেন ব্যক্তিগত কিছু কাজ সারার জন্য। তবে আপাতত সে সবে ছেদ।

এর পাশাপাশি টেলিমেডিসিন পরিষেবাও চালু করেছেন তিনি। তাঁকে সাহায্য করতে একদল চিকিৎসক এগিয়ে এসেছেন। তারা এই পরিষেবা শুরু করে দিয়েছেন দিন ১৫ হল।

তিনি জানাচ্ছেন, মানুষ যাতে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু পেতে পারেন এবং রোগীকে যাতে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যায়, তাই এই ব্যবস্থা।

সেখানে রয়েছে ওষুধপত্র, অক্সিমিটার, ভেপার নেওয়ার ব্যবস্থা, প্রেশার-পালস দেখার ব্যবস্থা। রয়েছে নেবুলাইজার, সুগার টেস্ট, পোর্টেবল অক্সিজেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার।

বছর তিনেক ধরে এলাকাবাসীকে স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সচেতনতার চেষ্টা করেছেন। সাধ্যের মধ্যে হাতের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছিলেন। কিন্তু এই অতিমারীতে সেগুলি বন্ধ।

তাই এলাকাবাসীর জন্য এই উদ্যোগ। যাতে প্রাথমিক চিকৎসটা যাতে দেওয়া যায়। টেলিমেডিসিন পরিষেবা দিচ্ছেন অরিন্দম বিশ্বাস, আরিফুর রহমান, সোহেল আখতার, মনোয়ার হোসেনের মতো চিকিৎসকেরা।