scorecardresearch
 
 

Bhabanipur BY Poll:‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজে ময়দানে মমতা, ভাবনীপুরে কোন স্ট্র্যাটেজিতে এগোচ্ছে TMC?

'বাংলা নিজের মেয়েকে চায়', একুশোর ভোটে এই স্লোগান তুলেই বাজিমাত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সারা বাংলাজুড়ে জোড়াফুলের হাওয়া বইলেও নন্দীগ্রামে সামান্য ভোটে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একুশের বিধানসভায় নিজের কেন্দ্র বদলেছিলেন মমতা। কিন্তু উপনির্বাচনে তিনি ফিরে এসেছেন তাঁর পুরনো ঘাঁটিতে। ভবানীপুর প্রকৃত অর্থেই তাঁর গড়। জয়ের ব্যাপারে কোনও সংশয় না থাকলেও ভবানীপুরের ৮ ওয়ার্ডে সকাল-বিকাল প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জনসংযোগে অংশ নিচ্ছেন খোদ মমতাও। আর এসবের মাঝেই স্পষ্ট হচ্ছে ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়ে কোন রণনীতিতে এগোতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী।

প্রচারে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী প্রচারে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী
হাইলাইটস
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ববানীপুরে উপনির্বাচন
  • রাজ্য রাজনীতির সব নজর এখন সেদিকেই
  • প্রচারে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী

'বাংলা নিজের মেয়েকে চায়', একুশোর ভোটে এই স্লোগান তুলেই বাজিমাত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সারা বাংলাজুড়ে জোড়াফুলের হাওয়া বইলেও নন্দীগ্রামে সামান্য ভোটে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একুশের বিধানসভায় নিজের কেন্দ্র বদলেছিলেন মমতা। কিন্তু উপনির্বাচনে তিনি ফিরে এসেছেন তাঁর পুরনো ঘাঁটিতে। ভবানীপুর প্রকৃত অর্থেই তাঁর গড়। জয়ের ব্যাপারে কোনও সংশয় না থাকলেও ভবানীপুরের ৮ ওয়ার্ডে সকাল-বিকাল প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জনসংযোগে  অংশ নিচ্ছেন খোদ মমতাও। আর এসবের মাঝেই স্পষ্ট হচ্ছে ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়ে কোন রণনীতিতে এগোতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী।

 আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর হতে চলা ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতলে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা নিশ্চিত হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নন্দীগ্রামে তিনি হারায় ভবানীপুর থেকে জিতে আসতে হচ্ছে। মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল ও সিপিএমের শ্রীজীব বিশ্বাস। তবে প্রচারের প্রথম থেকেই বিজেপি-বামেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল। প্রচারে বিশেষ কৌশলে এগোচ্ছে দল। 

৮টি ওয়ার্ডে  ৫৬টি পথসভা
যেহেতু কোভিড বিধির কারণে মিছিল বা বড় সভা করা যাবে না, তাই ঠিক হয়েছে অল্প অল্প করে দলে ভাগ হয়ে চলবে প্রচার। ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ৭ নেতাকে। তাঁরাই যাবতীয় প্রচার কর্মসূচিতে নজরে রাখছেন। এর পাশাপাশি বড় অংশের মানুষের কাছে ভবানীপুরের ঘরের মেয়ের বার্তা তুলে ধরতে ওয়ার্ড পিছু ৭টি করে হচ্ছে স্ট্রিট কর্ণার। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায়  এই স্ট্রিট কর্ণার শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে গোটা বিধানসভা জুড়ে প্রায় ৫৬টি এই ধরণের পথ সভা করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

 

 

মহিলাদের প্রচারে বাড়তি গুরুত্ব
ঘরের মেয়ের প্রচারে দায়িত্ব  দেওয়া হয়েছে মহিলাদের ওপরেও। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা ভবানীপুরের পাড়ায় পাড়ায় বাড়িতে-বাড়িতে যাবেন। ৫ জন করে দল গঠন করা হয়েছে। যে পরিবারে তারা প্রচারে যাবেন, তাদের কী সমস্যা, কোন পরিষেবা তারা পেয়েছেন কিনা, কোন পরিষেবা তারা পাননি, তাদের চাহিদা বা প্রয়োজন কী সবটাই জানবে এই প্রচার টিম৷  একই সাথে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কী কী কাজ করেছেন। প্রকল্পের যাবতীয় খতিয়ান তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন: হাইকম্যান্ডই চাননি মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী

কেবল বাংলা নয় অন্য ভাষাতেও প্রচার
 ভবানীপুর বিধানসভাকে বলা হয় মিনি ইন্ডিয়া। ভিন্ন ভিন্ন ভাষার মানুষ এই হাই প্রোফাইল বিধানসভার ভোটার। ফলে তাদের কথা চিন্তা করেই বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে লিফলেট বানানো হয়েছে। যা বাড়ি বাড়ি দেওয়া হবে।

৫ হেভিওয়েটকে গুরুদায়িত্ব
দলের তরফে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। ৮২, ৭৪ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার। ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের দায়িত্বে থাকছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: ভবানীপুরে কত ভোট মমতার? অতীত যা বলছে

নজরে বহুতল আবাসনগুলি
'দিদি’-‌কে‌ জেতাতে এবার তৃণমূলের নজর ভবানীপুরের বহুতল আবাসন গুলির উপর। বহুতলের বাসিন্দাদের ভোট তৃণমূলের দিকে টানতে এবার নয়া কৌশল নিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। বহুতলের বাসিন্দাদের ভোট সুনিশ্চিত করতে মহিলা ব্রিগেডই ভরসা তৃণমূলের। ভবানীপুরে ভোট প্রচারের ক্ষেত্রে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এবার তৃণমূল মূলত দ্বিমুখী প্রচার পরিকল্পনা করেছে। এক, বড় জনসভা নয়, ছোট ছোট পথ সভা বা স্ট্রিট কর্নার। দুই, বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ। 

 

 

 তারকা প্রচারকদের নামান হচ্ছে ময়দানে
ভবানীপুর-সহ রাজ্যের তিনি কেন্দ্রের জন্য ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপরেই তৃণমূলের তরফে তারকা প্রচারকের তালিকা জমা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় নেতা-মন্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন টালিগঞ্জের তারকারা। তালিকায় রয়েছেন, খোদ মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, পার্থ চট্টোপাধ‍্যায়, সুব্রত মুখোপাধ‍্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সৌগত রায়, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কুণাল ঘোষ, সুব্রত বক্সি, মনোজ তিওয়ারি, শোভনদেব চট্টোপাধ‍্যায়ের মতো হেভিওয়েটরা। এখানেই থামেনি লিস্ট, তারকাদের মধ্যে থাকছেন রুপোলি পর্দার সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, দেব, মিমি চক্রবর্তী, শতাব্দী রায়, রাজ চক্রবর্তীরা। 

সর্বোপরি মমতার জনসংযোগ
গত শুক্রবার গণেশ চতুর্থীর দিন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্ন থেকে ফেরার পথে হাজির হন নিজের বিধানসভা এলাকায়। ঘরের মেয়ে প্রচারে বেরিয়ে জনসংযোগে জোর দিয়েছেন। এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনে জনে কুশল বিনিময় করছেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন আমি তোমাদেরই লোক। জনসংযোগের পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে আড্ডাও দিচ্ছেন মমতা। একেবারে পাড়ায় পাড়ায় আড্ডার মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খিদিরপুরের ২৫-এর পল্লি দুর্গাপুজো যে পাড়ায় হয় সেখানেও যেমন তিনি যাচ্ছেন, তেমনি যাচ্ছেন ১৬ আনা মসজিদ এলাকাতেও। অর্থাৎ সুচারু ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতীরি বার্তা দিচ্ছেন মমতা। নন্দীগ্রামেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল একই প্রচার পদ্ধতি নিতে।

 

ভবানীপুর কখনও নিরাশ করেনি মমতাকে
ভবানীপুরে বাঙালি ছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যাক গুজরাতি ভোট। রয়েছে পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি ভোটও। সংখ্যালঘু ভোটও আছে। সেইসব অঙ্ক কষেই এগোচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। বিজেপি সেই অঙ্ক কষেই  এখানে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে প্রার্থী করেছে। লক্ষ্য অবাঙালি ভোটে ভাগ বসানো। তবে ঘরের মেয়ে হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে, সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একুশের ভোটে এই কেন্দ্রে  বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ২০১১ সালে ভবানীপুর থেকে প্রথমবার উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা। সেবার তৃণমূলনেত্রী পেয়েছিলেন ৭৩,৬৩৫ ভোট। মোট ভোটের ৭৭.৪৬ শতাংশ। ২০১৬-তে এই কেন্দ্র থেকে ৬৫ হাজার ৫২০ ভোট পান মমতা। শতাংশের হিসেবে ৪৮.৫৩ শতাংশ। ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ভবানীপুরের বিধায়ক পদ সামলেছেন মমতা। একুশের ভোটে সব সমীকরণ বুমেরাং করে দিয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর প্রথম নির্বাচন হচ্ছে রাজ্যে। আর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের যা ট্রেন্ড, তাতে ২০১১ থেকেই এখানে অন্তত ২৫ হাজারের কম ভটে জেতেনি তৃণমূল প্রার্থী। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার তার ব্যতিক্রম হবে না। তারমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুর থেকে একটা রেকর্ড করতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।