আইপ্যাক অফিসে ইডির হানাতৃণমূল কংগ্রেসের ভোট স্ট্র্যাটেজি সংস্থা I-PAC এর অফিস ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার সকালেই আইপ্যাক-এর অফিসে হানা দেয় ইডি। আড়াই বছর আগের কয়লা দুর্নীতি মামলায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। এখানেই সূত্রপাত। এরপরেই হঠাত্ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা হাজির হয়ে যান আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে। তারপরেই মমতাকে দেখা যায়, হাতে কয়েকটি ফাইল, হার্ডডিস্ক নিয়ে বেরলেন। তারপরেই মমতা গেলেন আইপ্যাক-এর সল্টলেকের অফিসে। সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরে মমতা পৌঁছনোর আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। রয়েছেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও। মমতা লিফটে সোজা চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এই বহুতলের ১১ তলায়। কিন্তু মমতাকে দেখা যায় ভবনের বেসমেন্ট দিয়ে সাধারণ লিফ্টেই তিনি ১১ তলায় পৌঁছেছেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন। ঠিক কী চলছে ইডি-র হানা ঘিরে? লাইভ আপডেট।
শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের FIR। অজ্ঞাতপরিচয় ইডি, CRPF আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের FIR। অনুপ্রবেশ, কর্তব্যরত পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে পুলিশের FIR। ইডি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের FIR: সূত্র। জোর করে আটকে রাখা, অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরেকটি FIR। শেক্সপিয়র সরণি থানায় আরেকটি FIR প্রতীক জৈনের পরিবারের: সূত্র
ইডি-র হানায় চাঞ্চল্য কলকাতায়। লাউডন স্ট্রিটে ব্যবসায়ী প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। প্রায় একই সময়ে সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে সঙ্গ দেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি। প্রশাসনের এমন সক্রিয় উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “পার্টি অফিস বাঁচাতে চিফ সেক্রেটারি পর্যন্ত নামতে হচ্ছে! কমিশন নোট করে রাখুক।”
কাল যাদবপুরের এইটবি থেকে মিছিল বের করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজ জানান, যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল হবে। সবাই চলে আসবেন।
ED-র অভিযান নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, 'IPAC বাংলায় ১০বছর ধরে কাজ করছে। ভোটের আগে ইডির অভিযানের কারণ কী? এত মামলা ঝুলে আছে। সেগুলোতে অভিযান চালাতে পারে। কেন মুখ্যমন্ত্রী আজ সেখানে গেলেন?'
I-PAC কাণ্ডে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সমালোচনায় মুখর কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, 'বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ অফিসিয়াল কাজে বাধা দিয়েছেন। সম্ভবত ভারতে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। দুর্নীতির মামলায় ইডির অভিযান চলছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে প্রমাণ চুরি এবং ধ্বংসের চেষ্টা করছেন। ইডি ভারতের ১০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে, যার মধ্যে ৬টি বাংলায় এবং ৪টি দিল্লিতে। অভিযান চালানোর সময়, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এসে ইডি কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র চেয়েছিলেন। কর্মকর্তারা নথিটি দেখান। হঠাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে একপাশে ঠেলে দেন। তিনি সেখান থেকে নথি এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংগ্রহ করেন। IPAC পরিচালনাকারী প্রতীক জৈনের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয় স্থানেই বাধা সৃষ্টি করেন। সুতরাং মমতার লুকোনোর অনেক কিছু আছে।'
I-PAC কাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি বলেন, 'আইন আইনের পথে চলবে। মামলাটি এখন বিচারাধীন। আদালতের বিষয়। সেই কারণে কোনও মন্তব্য করব না। তবে চারপাশে যা ঘটছে তা থেকে মনে হচ্ছে, বিনাশকালে বিপরীত বন্ধু।'
১২ ঘণ্টা পর I-PAC অফিস থেকে বেরোল ED, আধিকারিকদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ। একাধিক গাড়িতে করে ED আধিকারিকরা বেরিয়ে যান। সেই সব গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
কাল যাদবপুরের এইটবি থেকে মিছিল বের করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজ জানান, যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল হবে। সবাই চলে আসবেন।
I-PAC সংস্থার ইডি হানার প্রতিবাদে আগামিকাল অর্থাত্ শুক্রবার কলকাতায় মিছিল করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন মমতা।
ভোট চুরির পর তথ্য চুরি করতে নেমেছে বিজেপি। কখন, কবে কী প্রচার সব পরিকল্পনা জানতে চায়। ভোটের সময় এই অভিযানে প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে, তথ্য চুরি করতে এসেছে ইডি। ভোট সংক্রান্ত সব তথ্য জানতে এসেছিল: কুণাল ঘোষ
সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে আইপ্যাক-এর অফিসেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীক জৈন আইপ্যাক এর অফিসে পৌঁছনোর ১০ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে গেলেন মমতা। মমতা বললেন, 'এই হামলার জবাব জনগণ দেবে। আমরা মানহানির মামলা করব।'
প্রতীক জৈন ঢুকতেই আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের অফিস থেকে বেরোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চার ঘণ্টা পর বেরোলেন তিনি।
সাড়ে ৩ ঘণ্টা পার, এখনও আইপ্যাকের অফিসে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তিনি।
নিজের বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন প্রতীক জৈন। এখন তাঁর গন্তব্য সল্টলেকের আইপ্যাক অফিস। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন বলেই খবর।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন ED আধিকারিকেরা। তল্লাশিতে কিছুই বাজেয়াপ্ত হয়নি বলে ED সূত্রে দাবি। হাইকোর্টে দারস্থ ED। কাল শুনানির সম্ভাবনা।
আইপ্যাকে তল্লাশিতে ইডি জানিয়েছে, "এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নয়। মোট ১০টি (পশ্চিমবঙ্গে ৬টি এবং দিল্লিতে ৪টি) জায়গায় তল্লাশি চলছে। মামলাটি অবৈধ কয়লা পাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই তল্লাশিতে নগদ অর্থ, হাওয়ালা ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনও দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি করা হয়নি। এই তল্লাশি কোনও নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ। আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে কঠোরভাবে তল্লাশি চালানো হয়। সাংবিধানিক কর্মকর্তা সহ কিছু ব্যক্তি (১০ টির মধ্যে) ২টি জায়গায় এসে তাদের পদের অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছেন। নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন।"
On WB CM Mamata Banerjee's statement on the ED raids at the IPAC office in Kolkata, ED says, "The search is evidence-based and is not targeted at any political establishment. The search is ongoing at 10 places (6 in West Bengal and 4 in Delhi). The case relates to illegal coal… pic.twitter.com/ffEuSXBHSC
— ANI (@ANI) January 8, 2026
আইপ্যাক-এর অফিসে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, 'প্রতীক না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই অপেক্ষা করব। আমাদের নির্বাচনের যাবতীয় কৌশলগত নথি ছিনিয়ে নিয়েছে। যত সিট আপনাদের পাওয়ার কথা ছিলো, এর পর তো আপনারা শূন্য হয়ে যাবে। একতরফা কিছু হয় না। আমার এখনও চুপ আছি। এত মানুষের মৃত্যুর পরেও আশা করি যে বিচার পাব। বিচারের আশায় অপেক্ষায় আছি। আমাদের আইটি অফিসে এসে সব তথ্য , আমাদের বুথ প্রেসিডেন্ট এর তালিকা, প্রার্থীদের তালিকা, আমাদের দলীয় কৌশল গত নথি সব নিয়েছে।'
আজ সকালেই ইডি I-PAC এর প্রতীক জৈনের অফিসে তল্লাশি শুরু করে। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে যান পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাও। আর প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরনোর সময় হাতে করে কিছু জিনিস আসেন মমতা। তিনি জানান, তাঁর কাছে রয়েছে একটা ফাইল, একটা হার্ড ড্রাইভ এবং ফোন। এগুলিতে তৃণমূলের জরুরি সব তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যা করলেন সাংবিধানিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং কাজে বাধা দান। এই কাজকে নিন্দা জানাই। তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রীও।ইডির উচিত তার ক্ষমতা বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। তারা আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন।"
বিস্তারিত পড়ুন এই লিঙ্কে, Suvendu Adhikari: 'ED ব্যবস্থা নিক, I-PAC এর কাছে ভোটার লিস্ট কেন?' মমতার বিরুদ্ধে অ্যাকশনের দাবি শুভেন্দুর
'এসআইআর-এর মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৬৫ জন আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন। আমাদের সরকার রয়েছে, ভয় কীসের আপনাদের। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম অমিত শাহ হলে বাংলার মমতা ব্যানার্জি, পারবে না, ভয় পাচ্ছেন কেন।' মালদায় বললেন অভিষেক।