শান্তনু সেননেতাজি নিয়ে তরজায় (BJP)বিজেপি-তৃণমূল (TMC)। বিধানসভা ভোটের আগে মনীষীদের সম্মান জানাতে উঠেপড়ে লেগেছে দুই পক্ষ। India Today Conclave East 2021-এ কেন দেশের মনীষীদের সঙ্গে তৃণমূলের আত্মিকতা বেশি,তাঁর যুক্তি দিলেন তৃণমূলের সাংসদ শান্তনু সেন (Santanu Sen)। কী বললেন তিনি ?
নেতাজির জন্মদিনে কেন জাতীয় ছুটি নয় ?
এদিন তৃণমূলের সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস যখন দেশের স্বাধীনতার জন্য় প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করছেন,তখন তাঁকেও বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে। আর সেই বিরোধিতা করেছে তৎকালীন হিন্দু মহাসভার সাভারকারের মতো লোকজন। দেশে একজনের মূর্তি তৈরিতে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হল। অথচ বার বার নেতাজির জন্মদিনে জাতীয় ছুটি ঘোষণার দাবি করেও হতাশ হতে হয়েছে রাজ্য় সরকারকে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মদিনে জাতীয় ছুটির আবেদন জানিয়েছেন আমাদের মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। দেশের একটা রাজ্য়ে যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে একজনের মূর্তি বানানো হয়েছে , আমার মনে হয় নেতাজির মূর্তি বানিয়ে তাঁকে সেই সম্মান দেওয়া উচিত ছিল।''
নাম, ধাম জানে না ভোটের আগে দরদ
এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি চিকিৎসক-সাংসদ। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বলেন, রাজ্য়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে যারা নেতাজি,রবীন্দ্রনাথের কথা বলছেন, তাঁরা রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান পর্যন্ত জানেন না। এমনকী কবিগুরুর আত্মীয় পরিজন সম্পর্কে তাঁদের কোনও সম্যক ধারণা নেই। এটা খুবই দুর্ভাগ্য়জনকে যে, স্বামী বিবেকানন্দ ঠাকুর বলে কেউ দেশের মনীষীদের সম্বোধন করছেন। তারাই আবার মনীষীদের মান দেওয়ার কথা বলছেন।
রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি এখন ভোটের ইস্যু
রাজ্য় রাজনীতির সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি বলছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বাংলায় আসাটা ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল। ভোট রাজনীতির অক্ষে পাল্টা বিজেপির এই 'আসা যাওয়া' নেতাদের বহিরাগত তকমা দিয়েছে ঘাসফুল ব্রিগেড। বিজেপির নেতাদের সভায় বার বার উল্লেখ করা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের নাম। যা করতে গিয়ে কয়েক বার ভুল করেছেন গেরুয়া ব্রিগেডের কেন্দ্রীয় নেতারা। যা নিয়ে পাল্টা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস।
Amit Shah Bengal Visit: ''ভোট শেষ হতে হতে মমতাও জয় শ্রীরাম বলবেন''
নেতাজি নিয়ে রাজ্য়-কেন্দ্র সংঘাত
সম্প্রতি নেতাজির জন্মজয়ন্তী নিয়ে সংঘাতে জড়ায় রাজ্য়-কেন্দ্র। নেতাজির জন্মদিনকে দেশনায়ক দিবস ঘোষণা করার দাবি জানায় রাজ্য় সরকার। পাল্টা এই দিবসকে পরাক্রম দিবস নাম দেয় মোদী সরকার। যা পছন্দ হয়নি মুখ্য়মন্ত্রীর। সেকারণে রাজ্য়ে দেশনায়ক দিবস নাম দিয়েই রাজ্য়ে পালিত হয় নেতাজির জন্মদিন। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, ''পরাক্রম কী তা বুঝি না।' নেতাজিকে দেশের নায়ক মনে হয়। কেন্দ্র নেতাজির জন্মদিবসের নাম ঘোষণার ক্ষেত্রে কেন একবার কথা বলল না। তা নিয়েও উষ্মাপ্রকাশ করেন মুখ্য়মন্ত্রী।