মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নরেন্দ্র মোদী- ফাইল ছবি। কয়লাকাণ্ডে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একবারও নরেন্দ্র মোদীর নাম উচ্চারণ করেননি। এবার রাজ্যে ইডি-সিবিআই তদন্ত থেকে মোদীকে আলাদা করার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাজ্য বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, সিবিআই-ইডির 'বাড়াবাড়ি'র নেপথ্যে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রের নেতারা। বস্তুত, নাম না করে অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীকেই কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইডি-সিবিআই তদন্তে 'অতিসক্রিয়তা' নিয়ে প্রস্তাবের বিতর্ক চলাকালীন বিজেপি নেতাদের নিশানা করেন মমতা। লক্ষ্যণীয়, গোটা ঘটনায় নরেন্দ্র মোদীকে 'ক্লিনচিট' দিলেন। তিনি বলেন,'সিবিআই এখন আর প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে নেই। এই সংস্থা এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক চালায়। কলকাতায় ২১টা রেড করেছে ইডি। এক মাসে ইডি-সিবিআই ১০৮টি মামলা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটা নরেন্দ্র মোদী করছেন না। এসব করছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। ২০২৪ সালের আগে সরকারকে বিব্রত করতে ইডি-সিবিআইকে সক্রিয় করা হচ্ছে।'
শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে মমতা জানান,'চোর গেরুয়া সেজে বসেছেন। দেখে নেবে বলছে!যারা গ্যাস বেলুনের মতো ফুলেছ, শেষ হয়ে যাবে। তোদের বাড়িতে কত টাকা আছে আমার জানা আছে। কটা পেট্রোল পাম্প, লজ আছে আমরা জানি। সিবিআই তদন্ত করলে আমরা পাশে থাকব।' নারদা প্রসঙ্গ না তুলে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, যে ঘটনায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হল, সেখানে শুভেন্দু ছাড় পেলেন কীভাবে?
ঘটনা হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিবারই মোদী-দিদি সেটিংয়ের অভিযোগ তোলেন সিপিএম-কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা। বিজেপি সূত্রের খবর, মোদীর সেনাপতি অমিত শাহ। তিনি সভাপতি না থাকলেও সংগঠন দেখেন। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও একাধিকবার তাঁর দেখা হয়েছে। ফলে মোদীকে ছেড়ে মমতা ঠিক কাকে আক্রমণ করলেন তা সহজেই অনুমেয়। নরেন্দ্র মোদীকে ছাড় দেওয়া কি তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল? তুঙ্গে জল্পনা।
এ দিন শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে জানান,'এই প্রস্তাব পাশের কোনও অর্থ নেই। ইডির তদন্ত নিয়ে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। সরকার চাইল তো সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। আর বিধানচন্দ্র রায় থেকে জ্যোতি বসু, কোনও মুখ্যমন্ত্রীই বিরোধী দলনেতাকে তুই-তোকারি করেননি।' মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য আগেই বলেছিলেন,'একটা প্রস্তাব সরকার আনতেই পারে। এটা ক্রীতদাসদের সরকার নয়। স্বাধীনচেতা সরকার।'
আরও পড়ুন- পার্থ-অর্পিতার ১০৩ কোটির সম্পত্তি! ৫৮ দিনে চার্জশিট পেশ ইডির