Panihati Pranami Box Controversy: মন্দিরের টাকায় ভাগ বসাতো তৃণমূল? প্রণামী বাক্স চেয়ে পাঠানোর পিছনে আসল সত্যিটা কী?

মন্দিরের অর্থ মন্দিরের উন্নয়নে ব্যবহার হবে। সরকারি সংস্থার নজরদারিতে টাকা জমা রাখা হবে। মন্দিরের পুরোহিত এর অংশ হবেন। মন্দিরের পুরোহিত আর তৃণমূল নেতারা মন্দির থেকে টাকার ভাগ বসাতে পারবে না বলে জানান বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

Advertisement
মন্দিরের টাকায় ভাগ বসাতো তৃণমূল? প্রণামী বাক্স চেয়ে পাঠানোর পিছনে আসল সত্যিটা কী?প্রণামী বাক্স বিতর্ক

মন্দিরের প্রণামী বাক্স ঘিরে তোলপাড় পানিহাটি। বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথের বিরুদ্ধে প্রণামী বাক্স লুঠের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অর্থলোভে তিনি নাকি প্রণামীর বাক্স চেয়ে পাঠিয়েছেন। সমালোচনার ঝড় আরজি কর নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে। আসল সত্যিটা কী? ঠিক কী ঘটেছিল পানিহাটির দণ্ডমহোৎসবে যে কারণে এত বিতর্ক? কী বলছেন মন্দিরের সেবাইত বঙ্কু বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়।

পানিহাটির দণ্ডমহোৎসব দই-চিঁড়ের মেলার বিশেষত্ব
সোদপুরের পানিহাটির ফেরিঘাট সংলগ্ন পানিহাটির দণ্ডমহোৎসবতলা। এখানে রয়েছে গৌর-নিতাইয়ের মন্দির। পাশেই ৭০০ বছরের পুরনো বটবৃক্ষের তলায় রয়েছে চৈতন্যবেদী এবং নাটমন্দির। ১৫১৪ খ্রীষ্টাব্দে চৈতন্য মহাপ্রভু পুরী থেকে নৌকাযোগে ফেরার সময় এই ঘাটে আসেন। মোট দু'বার তিনি এই স্থানে আসেন। এই ঘাট চৈতন্য ঘাট নামেও পরিচিত। শ্রী চৈতন্যদেব নিত্যানন্দ মহাপ্রভুকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করার জন্য এখানে পাঠান। এই স্থানেই নিত্যানন্দ মহাপ্রভু রঘুনাথকে দণ্ড দান করেন, যার পর থেকে দণ্ডমহোৎসব শুরু হয়। যুগের পর যুগের বছরের বছর দণ্ডমহোৎসবের দিন এখানে ভিড় করেন লক্ষ লক্ষ ভক্তেরা। এই দণ্ডমহোৎসব এক ও একমাত্র পানিহাটিতেই পালিত হয়। এটি দই-চিঁড়ের উৎসব নামেও খ্যাত। এখানে চিঁড়ের মেলাও বসে। বৈষ্ণব ধর্মাবল্বী ভক্তেরা এদিন ভিড় করেন। বিগত কয়েকবছরে সংলগ্ন ইস্কন মন্দিরও দণ্ডমহোৎসবে সহায়তা করে। ভক্তদের জলছত্র, খিচুড়ির মতো খাবারের আয়োজন করে। এই মন্দিরে গৌর-নিতাই সহ রাধাকৃষ্ণের আরাধনা হয়। মন্দির খুবই জাগ্রত বলে লোক বিশ্বাস। এই মন্দিরে শ্রী চৈতন্যের চরণযুগল সংরক্ষিত রয়েছে। 

এই মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন সেবাইত বঙ্কু বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। বংশ পরম্পরায় তাঁদের পরিবারই এই মন্দিরের সেবায় নিযুক্ত রয়েছেন। এবার ২৭ জুন, ২০২৬-এ ৫১০-তম দন্ডমহোৎসব আয়োজিত হয়।

প্রণামী বাক্স নিয়ে কী বিতর্ক?
দণ্ডমহোৎসব তলার সেবাইত বঙ্কু বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অডিও দিন কয়েক ধরেই ভাইরাল। প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন, শনিবার দণ্ডমহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সারাবছর এই মন্দিরে পুজো ও সেবা হয় বছরে একদিন দণ্ডমহোৎসবে লক্ষ লক্ষ ভক্তের অনুদানে পাওয়া প্রণামী থেকে। সেবাইত বঙ্কু বিহারীর দাবি করেন, "বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথ এসে মন্দিরের প্রণামী বাক্সটা চেয়ে পাঠান তাঁর কাছে।" এতে তিনি জবাব দেন, "বছরভর খাটাখাটনি করে, মন্দির সাজিয়ে খরচ করে পুজো করছেন তিনি। এখন এই চাবি কারও হাতে তুলে দিলে চলবে কীকরে? শেখরবাবু বলেন, ট্রাস্টি করার জন্য প্রণামীর বাক্সের চাবি দিতে হবে।" তাঁর অভিযোগ, "বংশ পরম্পরায় এই মন্দিরের সেবা করছেন তাঁরা।" যদিও পরে আর মন্দিরের প্রণামী বাক্স চাইতে আসেননি বিধায়কের স্বামী, বলে জানান সেবাইত বঙ্কু বিহারী। এ প্রসঙ্গে এরপর আর কোনও আলোচনাও গড়ায়নি। তবে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে বিধায়কের স্বামীকে ঘিরে। 

Advertisement

এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িত প্রাক্তন কাউন্সিলর কৌশিক চ্যাটার্জি ওরফে ভোলা। মন্দির থেকে প্রণামী বাক্স সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আপত্তি তোলেন তিনি। ট্রাস্টি তৈরিতে রাজি হননি প্রাক্তন কাউন্সিলর। 

কী বলেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ?
এ প্রসঙ্গে বিধায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, "আমার ও আমার স্বামীর কোনও অর্থলোভই নেই। যদি থাকত তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মতো সমঝোতা করে নিতেন। বিজেপির পতাকা ধরতে হত না।" তিনি সাফ জানান, "মন্দিরে ট্রাস্ট গঠন হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। মন্দিরের অর্থ মন্দিরের উন্নয়নে ব্যবহার হবে। সরকারি সংস্থার নজরদারিতে টাকা জমা রাখা হবে। মন্দিরের পুরোহিত এর অংশ হবেন। মন্দিরের পুরোহিত আর তৃণমূল নেতারা মন্দির থেকে টাকার ভাগ বসাতে পারবে না বলে তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। টাকা লুঠের অভিযোগ মিথ্যে। এই মন্দিরের টাকার লুঠতরাজ বন্ধ হবে।"

সেবাইতের কী মত?

বিধায়ক রত্না দেবনাথের ট্রাস্টি গঠনের সিদ্ধান্তের পর আর কোনও মন্তব্য করতে নারাজ মন্দিরের সেবাইত। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন। 

POST A COMMENT
Advertisement