জহর সরকারJawhar Sircar: কয়েক দিন আগেই দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy) বলেছেন, 'দল একটা কঠিন সময়ের মধ্যে যাচ্ছে।' একের পর এক দুর্নীতিতে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এহেন অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন আমলা জহর সরকার (Jawhar Sircar)। দুর্নীতি ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। বললেন, 'এদের যদি এখনই বর্জন না করে, তবে এক সাইড পচা শরীর নিয়ে ২০২৪ সালে লড়াই করা মুশকিল!'
কী বলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ?
তিনি দাবি করেন, দলের একটা দিকে পচে গিয়েছে। এমন দল নিয়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করা সম্ভব হবে না। বাড়ির লোকেরা ও বন্ধুবান্ধবেরা তাঁকে রাজনীতি ছাড়তে বলেছেন বলেও দাবি করেছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জহর সরকারের কথায়, 'বাড়ির লোকেরা সাথে সাথে বলল, তুমি ছেড়ে দাও। বন্ধুরা বলছে, তুই এখনও আছিস? কত পেয়েছিস? এই ধরনের লাঞ্ছনা তো জীবনে কখনওই শুনতে হয়নি।' জহর সরকার বলেছেন, এমন দৃশ্য টিভিতেও কম দেখা যায়। দুর্নীতির টাকা দিয়ে এভাবে অলঙ্কৃত করা দেখলে গা শিরশির করে।
আরও পড়ুন: Mamata On Anubrata: 'কেষ্টর মতো সাহায্যকারী ছেলে কম দেখেছি,' অনুব্রতর পাশে নেত্রী
'গা শিরশির করে'
জহর সরকারের আরও বক্তব্য, 'আমি বাইরে থেকে রাজনীতিতে এসেছি। একুশের ঢেউ দেখে এসেছি। আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় শত্রু ফ্যাসিস্ট শক্তি বিজেপি। চাকরি জীবনেও দেখেছি, একটা অংশ চোর ছিল। সব পেশায় একটা শ্রেণি থাকে। যাঁরা ধাপ্পাবাজি করতে এসেছে। রাজনীতিতেও করছে। যেভাবে করল এবার, তা দৃষ্টিকটূ। রাজনীতির কায়দা আমি বুঝি না। আমার আবেদন থাকবে, যাঁরা ধরা পড়ছে, যাঁরা ধরা পড়তে পারে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। একুশের সময়ে বলেছিলাম, কাটমানির কথা। অনেকে ফেরত দিয়েছে। আমাদের সেই নীতি মানতেই হবে। রাজনীতির নামে টাকা বানাব। বান্ধবীর নামে ফ্ল্যাট কিনব, মানা যায় না। পার্থকে আমি চিনি। কিন্তু বিশ্বাস করতেই পারছি না।'
আরও পড়ুন: Mamata On Firhad: ববিকে গ্রেফতার করলে বুঝবেন সবটা সাজানো: মমতা
২০২৬ পর্যন্ত সাংসদপদে মেয়াদ
২০২০ সালের ৩ এপ্রিল রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি সাংসদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ। তাঁর জায়গাতেই জহর সরকারকে রাজ্যসভায় পাঠান মমতা।