
পেয়ারা এমন একটি ফল, যা সস্তা, সহজলভ্য এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। অনেকেই জানেন না, নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বিশেষ করে শীতের সময়ে বাজারে প্রচুর পেয়ারা পাওয়া যায়, আর এই সময়েই এই ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে দীর্ঘমেয়াদে মিলতে পারে নানা উপকার।
পেয়ারা ভিটামিন সি-তে ভরপুর। এককথায়, লেবুর থেকেও বেশি ভিটামিন সি থাকে এই ফলে। ফলে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাঁদের বারবার সর্দি-কাশি হয়, তাঁদের নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া উচিত।
পেয়ারায় রয়েছে ফাইবার বা খাদ্যতন্তু। এই উপাদান হজমে সাহায্য করে। যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাঁদের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী। সকালে খালি পেটে একটা পাকা পেয়ারা খেলে অনেকটা উপকার মেলে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পেয়ারা ভাল। এতে সুগার কনটেন্ট কম, কিন্তু ফাইবার বেশি, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়ে না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণমতো খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
পেয়ারায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত পেয়ারা খেলে ত্বকে উজ্জ্বলতা আসে, বলিরেখা কমে এবং বয়সের ছাপ পড়তে সময় লাগে। এমনকি চুল পড়াও কিছুটা রোধ করা যায় বলে দাবি করেন পুষ্টিবিদরা।
পেয়ারার পাতা পর্যন্ত উপকারী। অনেকে পেয়ারা পাতার রস দিয়ে গলা ব্যথা বা মুখের ঘা কমানোর চেষ্টা করেন। এতে জীবাণুনাশক গুণ আছে।
হার্টের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও পেয়ারা খুবই ভাল। এতে থাকা পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।
এছাড়াও, পেয়ারা আয়রনেরও ভাল উৎস। যাঁদের রক্তাল্পতার সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে কিশোরী ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই ফল খাওয়া দরকার।
যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্যও পেয়ারা একটা আদর্শ ফল। এতে ক্যালোরি কম, কিন্তু পেট ভরিয়ে রাখে। তাই বেশি খিদে পায় না, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোজ একটা করে পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর ও মনের নানা দিকেই উপকার মেলে। সহজলভ্য এই ফলে রয়েছে অনেক গুণ। তবে অতিরিক্ত কিছুই ভাল নয়। তাই পরিমিত পেয়ারা খেলে শরীর থাকবে সুস্থ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও থাকবে হাতের মুঠোয়।