
বিগত কয়েক দশক ধরে স্থূলতা বা ওবেসিটি ছিল বিশ্বের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ। আমরা দেখেছি, কীভাবে ওজন বাড়ার গ্রাফটা রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছিল। কিন্তু এবার কিছুটা স্বস্তির খবর শোনাল বিজ্ঞানীদের এক নয়া গবেষণা।

বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের বেশ কিছু দেশে ওবেসিটি বাড়ার গতি এখন থমকে গিয়েছে। কোথাও কোথাও তো আবার ওজন কমার ইঙ্গিতও মিলছে। বিশ্বের প্রায় ২ হাজার গবেষক মিলে ২৩ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

আমরা লক্ষ্য করছি, আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো ধনী দেশগুলোতে স্থূলতার বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই স্থিতিশীল। ফ্রান্সে তো স্থূলতার হার কমতে শুরু করেছে। গবেষকরা মনে করছেন, জনসচেতনতা, পুষ্টিশিক্ষা এবং শরীরচর্চার ওপর জোর দেওয়াই এই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

এমনকী ওয়েগোভি (Wegovy) বা মাউঞ্জারো (Mounjaro)-র মতো আধুনিক ওজন কমানোর ওষুধগুলোও এই লড়াইয়ে নতুন হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসই আসল ম্যাজিক দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে এই ইতিবাচক প্রবণতা ২০০৫ সাল থেকেই নজরে আসছে।

কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। উন্নত দেশগুলো যখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচছে, তখন নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ওবেসিটি বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। আর সবথেকে ভয়ের কথা হলো আমাদের ভারত। আমরা দেখছি, ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ যেখানে সবথেকে বেশি সংখ্যায় স্থূল শিশু রয়েছে। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী প্রায় ৪ কোটি শিশু এখন অতিরিক্ত ওজনের শিকার। ২০৪০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।

গবেষকদের সতর্কবার্তা
স্থূলতা মানেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক আর ক্যান্সারের হাতছানি। আমরা দেখেছি, ৩০ বছর বয়সের আগে ওজন বাড়লে পুরুষদের লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রেও অগ্ন্যাশয় বা জরায়ুর ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রবল। এমনকি যাদের ওজন স্বাভাবিক, সেইসব ভারতীয়রা ‘ভিসেরাল ফ্যাট’ বা পেটের মেদ এবং অলস জীবনযাপনের জন্য ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের কবলে পড়ছেন।

জাপান বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো কিন্তু পুষ্টিশিক্ষা আর পরিমিত আহারের মাধ্যমে এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। আমরা মনে করি, ওবেসিটি রুখতে কোনো জাদুদণ্ড নেই। দীর্ঘমেয়াদী সরকারি পরিকল্পনা আর সচেতনতাই পারে এই মহামারি রুখতে।

মনে রাখবেন, কেবল বিএমআই (BMI) নয়, কোমরের মাপ আর মেটাবলিক স্বাস্থ্যই বলে দেবে আপনি কতটা সুস্থ। ব্যালেন্স ডায়েট আর সচল জীবনযাত্রাই হোক আপনার দীর্ঘায়ুর মূলমন্ত্র।