শীতকালে দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি খারাপ? শীতকালে ঠান্ডা জিনিস খাওয়া নিয়ে অনেকের মনেই নানা সন্দেহ থাকে। বিশেষ করে দইয়ের মতো একটি ঠান্ডা অথচ উপকারী জিনিস শীতকালে খাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে বহু মানুষ দ্বিধায় ভোগেন। আর সেই কারণেই, যারা গরমকালে নিয়মিত দই খান, তাঁরাও শীতকালে আর দই খেতে চান না।
বহু লোক বিশ্বাস করেন, শীতকালে দই খেলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। কিন্তু দই কি আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটা পুরোটাই ভুল ধারণা? শীতকালে দই খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায়? আর কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত? তা দেখে নেওয়া যাক
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক শীতকালে দই কেন খাওয়া উচিত?
দইয়ে থাকে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি-এর মতো উপাদান। এই পুষ্টি উপাদানগুলি হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে, স্নায়ুতন্ত্রের কাজ সঠিক ভাবে করতে ও সর্বোপরি শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। দই খেলে শীতকালে শরীরের সক্রিয় কার্যকারিতা বজায় থাকে। কারণ, এই শীতের সময় সাধারণত বাইরে বেরোনোর প্রবণতা কমে যায়। শারীরিক অ্যাক্টিভিটি কমে যায়।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে:
দইতে প্রোবায়োটিক নামক স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকে। যারা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই একটি শক্তিশালী পাচনতন্ত্র শরীরকে অসুস্থতার সঙ্গে আরও ভালভাবে লড়াই করতে সাহায্য করে। দইয়ের প্রোবায়োটিকগুলি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে। পাশাপাশি সাধারণ শীতকালীন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে:
দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে। শীতকালে সর্দি-কাশির ঝুঁকি বেশি থাকে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন দই খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। ঠান্ডা লাগা, সর্দি হওয়ার মতো অসুস্থতার ঝুঁকি কমে যায়।
শীতকালে দই খাওয়ার আগে কোন দিকে নজর দিতে হবে?
শীতকালে সঠিক উপায়ে ও সঠিক পরিমাণে দই খেলে তা উপকারী হতে পারে। তবে, খুব বেশি টক বা বাসি দই খাওয়া উচিত নয়। শীতকালে দই সবসময় ঘরের তাপমাত্রায় অর্থাৎ রুম টেম্পারেচারে খাওয়া উচিত। ফ্রিজ থেকে বের করার সঙ্গে সঙ্গেই দই খাওয়া উচিত নয়। কারণ ঠান্ডা দই গলা ব্যথা বা কাশির মতো ক্ষেত্রে অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলেও বিকেল ৫টার পরে দই এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এটি শ্লেষ্মার ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি বা হাঁপানি আছে তাঁদের বিকেলের পর আর দই খাওয়া উচিত হবে না।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশে প্রকাশিত। আপনার শরীরের জন্য শীতকালে দই উপকারী কিনা, তা অবশ্যই চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)