
Fat Loss Diet Plan: ওজন কমাতে হলে প্রথমেই বদলাতে হবে জীবনযাপনের অভ্যাস এমনটাই বলছেন ফিটনেস ট্রেনার তাকাই রাশিদ। তাঁর মতে ৩ মাসে ৫ থেকে ৮ কেজি ওজন নামানো একেবারেই অসম্ভব নয়। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অভ্যাস আর নিজের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখলে ধীরে ধীরে শরীর থেকে কমতে শুরু করবে চর্বি। কারও ক্ষেত্রে এই সময়েই ২০ কেজি পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যদি ডায়েট আর ব্যায়ামের সমন্বয় পুরোপুরি ধরে রাখা যায়।
ডায়েটের ক্ষেত্রে রাশিদ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শর্করার মাত্রা কমানোয়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত চিনি-যুক্ত পানীয় সোডা, প্যাকেটের জুস বা মাল্ট ড্রিঙ্কস ওজন বাড়ায় দ্রুত। তার বদলে জল, গ্রিন টি বা লেবু-জলই রাখুন দৈনন্দিন তালিকায়। খাবারের প্লেটেও বদল আনতে হবে। সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত ভাতের পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন, সবজি আর হালকা কার্বোহাইড্রেট বাড়াতে হবে।
রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। রাশিদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাতের খাবার সেরে ফেলাই ভালো। তার পরে জল ছাড়া কিছুই না খাওয়াই আদর্শ। বাসি-তৈরি, প্রসেসড বা প্যাকেটজাত খাবারের বদলে বাড়িতে তৈরি টাটকা খাবার খেলে শরীরে বাড়তি শক্তি বজায় থাকে এবং চর্বি জমা হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। হালকা ফল, বাদাম বা দই, এ ধরনের স্ন্যাকস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
শুধু ডায়েট নয়, সক্রিয় থাকা খুব জরুরি। প্রতিটি খাবারের পরে অন্তত কিছুটা হাঁটলেই হজমশক্তি বেড়ে যায়। লিফটের বদলে সিড়ি ব্যবহার, দিনভর ১০ হাজার স্টেপ হাঁটা। এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ায়। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করতে হবে। নিজের ওজন দিয়ে বা হালকা ডাম্বেল ব্যবহার করেও করা যায় এ ধরনের ব্যায়াম। এতে পেশি বাড়ে, ফ্যাট কমে।
শরীর ঠিক রাখতে ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিকমতো ঘুম না হলে পরের দিন অতিভোজনের প্রবণতা বাড়ে, শরীরের পুনরুদ্ধারও হয় না। রাশিদের মতে, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে শরীর স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে, চর্বি কমানোও সহজ হয়। তবে কোনও পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রতিটি শরীর আলাদা, তাই ডায়েটের নিয়মও ব্যক্তিভেদে বদলায়।