শীতকালে সুস্থ থাকতে কী খাওয়া উচিত?শীতকালে শরীরে খুব সহজে অসুখ হানা দিতে পারে। বিশেষ করে সর্দি, ঠান্ডা লাগা একেবারে সাধারণ রোগ হিসেবে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই বহু মানুষ শীতে খেজুর, আমন্ডের মতো খাবার খাওয়ার উপর জোর দেন। কিন্তু, অনেকেই প্রশ্ন করেন আমন্ড নাকি খেজুর কোনটা শরীরের জন্য অনেক বেশি দরকারি? আসুন বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।
খেজুর খাওয়ার উপকারিতা
খেজুরে গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজের মতো প্রাকৃতিক সুগার থাকে। তাই শীতকালে খেজুর খেলে তৎক্ষণাৎ শক্তি পাওয়া যায়। শরীরকে ঠান্ডা লাগার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। সকালে ২-৩টি খেজুর খেলে ক্লান্তি কমে এবং শরীর অনেক বেশি অ্যাক্টিভ থাকে। এছাড়াও খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা শীতকালীন দুর্বলতা এবং হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি রোধ করতে সাহায্য করে। এই ফলে থাকা ফাইবার হজমশক্তি ভালো করে, কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।
পাশাপাশি, খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। একইসঙ্গে সিজনের অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। তবে খেজুর কিন্তু বেশি খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগী এবং যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাঁদের অতিরিক্ত পরিমাণে খেজুর খাওয়া চলবে না।
এবার জেনে নেওয়া যাক শীতকালে বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
বাদাম অনেকক্ষণ ধরে শরীরকে শক্তি সরবরাহ করে। আসলে এতে প্রোটিন ও ফাইবার থাকে, যা শীতকালে শরীরকে শক্তিশালী এবং উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। আবার বাদাম ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ, ফলে বাদাম ঠান্ডা আবহাওয়ায় ত্বকের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
এছাড়া, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তির জন্যও বাদাম ভালো বলে মনে করা হয়। এই কারণেই শীতকালে রাতে বাদাম ভিজিয়ে রেখে সকালে বাদাম খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তাছাড়া, বাদাম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এবং হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
তাহলে শীতকালে কোনটি খাওয়া ভালো?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেজুর এবং বাদাম দুটোই হেলদি খাবার। যদি দুর্বলতা, ঠান্ডা বা ক্লান্তি বোধ হয়, তাহলে খেজুর সবচেয়ে ভালো। কারণ এটি ইনস্ট্যান্ট শক্তি এবং উষ্ণতা দেয়। তবে, দীর্ঘমেয়াদী শক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চাইলে বাদাম বেশি উপকারী। বেশ কিছু এক্সপার্ট মনে করেন, খেজুর ও আমন্ড বাদাম দুটোই খাওয়া উচিত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তির জন্য সকালে ১০-১২টি ভেজানো বাদাম খাওয়া যেতে পারে। আবার ইনস্ট্যান্ট অ্যাক্টিভিটির জন্য ও শরীর গরম করার জন্য সারাদিনে ১-২টি খেজুর খেতে হবে। খেজুর ও বাদাম শীতে শরীর সুস্থ এবং ফিট রাখতে সাহায্য করবে।