শীতকালে স্নানপ্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছে বাংলায়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চলে গিয়েছে স্বাভাবিকের নীচে। সেই সঙ্গে উত্তুরে হাওয়ার দাপটও রয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতেই অনেকে স্নান করতে চাইছেন না। তাঁরা এক-দুইদিন বাদে বাদে স্নান করছেন।
এখন প্রশ্ন হল, শীতে ঠিক কতদিন পর স্নান করলে কোনও সমস্যা হবে না? আর সেই প্রশ্নের উত্তরটা দিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক উৎসব দাস। তিনি বললেন, 'শীত বলে একবারে স্নান বন্ধ করে রাখলে চলবে না। বরং প্রতিদিন স্নান করাই ভাল। যদিও চাইলে ১ দিন স্নান না করা যেতে পারে। আর সবথেকে বেশি হলে ২ দিন পর্যন্ত স্নান বন্ধ রাখা যায়। তার বেশি নয়। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না। এমনকী পিছু নিতে পারে একাধিক সমস্যাও।'
কী কী হতে পারে?
ডাঃ দাস বললেন, '২-৩ দিন স্নান না করলে একাধিক সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে ত্বক থেকে পেট, একাধিক জটিলতা নিতে পারে পিছু।'
সেনসিটিভ স্কিনে সমস্যা হবে
মাথায় রাখতে হবে, অনেকেরই ত্বক খুব সংবেদনশীল। তাঁদের অল্পতেই স্কিনে সমস্যা হয়। আর স্নান না করলে ত্বকের উপর জীবাণু জমতে পারে। পাশাপাশি নোংরা জমার রয়েছে আশঙ্কা। যার ফলে সেনসিটিভ স্কিনের সমস্যা হয়। তাই এই সমস্যা থাকলে প্রতিদিনই স্নান হল মাস্ট বলে জানালেন ডাঃ দাস।
দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে
আমাদের ত্বকের উপর বাসা একাধিক ব্যাকটেরিয়া। আর সেই ব্যাকটেরিয়া স্নান না করলে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। এছাড়া ৩-৪ দিন স্নান না করলে ত্বক চুলকাতে পারে। এমনকী মাথাতেও চুলকানি হওয়া সম্ভব। তাই দুর্গন্ধ ও চুলকানির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত স্নান করুন।
এছাড়া আরও বেশি দিন স্নান করলে ড্যানড্রফ হতে পারে। ব্রণ নিতে পারে পিছু। তাই সাবধান হন। চেষ্টা করুন নিয়মিত স্নান করার।
কারা স্নান কম করলে ক্ষতি নেই?
একটু বয়স্ক মানুষদের এই সময় সাবধানে স্নান করতে হবে। আপনারা চাইলে শরীর মুছে নিতেও পারেন। তাতেও কোনও সমস্যা নেই।
উল্টোদিকে যাঁরা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, বিভিন্ন ধরনের আউটডোর অ্যাক্টিভিটি রয়েছে, তাদের অবশ্যই প্রতিদিন স্নান করতে হবে। তাহলেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
গরম জলে করা যেতে পারে স্নান
অনেকেই মনে করেন গরম জলে স্নান করা উচিত নয়। তবে বিষয়টা একবারেই ঠিক নয়। এই শীতে অনায়াসে গরম জলে স্নান করা যায়। তাতে কোনও ক্ষতি নেই বলেই জানাচ্ছেন এই চিকিৎসক। সুতরাং ফালতু টেনশন না নিয়ে গরম জলে স্নান চালিয়ে যান।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।