
Protein Powder Benefit: ফিটনেস দুনিয়ায় প্রোটিন পাউডার নিয়ে প্রচুর মতবিরোধ। কেউ বলেন এটি শরীরের জন্য উপকারী, আবার কেউ বলেন কিডনির ক্ষতি হতে পারে। আসলে প্রোটিন পাউডার তৈরি হয় দুধের হোয়ে কেসিন, সয়া, মটরশুঁটি বা ডাল থেকে প্রোটিন আলাদা করে। অনেকেই মনে করেন জিমে ভর্তি হলেই প্রোটিন শেক জরুরি। কিন্তু বলিউড তারকাদের ট্রেনার দীপেশ ভট্ট একেবারে উল্টো পরামর্শ দিচ্ছেন।
দীপেশ তাঁর বইতে লিখেছেন, বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট আছেন যারা নিরামিষ খান, সাপ্লিমেন্ট ছোঁয়াও না। তবু তারা বিশ্বমানের পারফর্ম করেন। আবার বহু মানুষ দিন-রাত প্রোটিন শেক খেলেও ফল পান না। তাঁর মতে, সাপ্লিমেন্টের দাম বেশি। এগুলো এমনভাবে নেওয়া উচিত নয় যাতে ফিটনেসই পকেটের ওপর বোঝা হয়ে যায়।
সপ্তাহে যাঁরা মাত্র ২-৩ দিন জিম করেন এবং নিয়মিত ডিম, দুধ, পনির, দই, মাংস বা নটস খান, তাঁদের আলাদা করে প্রোটিন পাউডার লাগেই না। গবেষণাও বলে, হালকা ও মাঝারি মানের ব্যায়ামকারীদের জন্য খাবারের প্রোটিনই যথেষ্ট। কিন্তু অনেক জিম ট্রেনার ভুল ধারণা ছড়ান। ফলে বাজারে প্রোটিন শেক, বার, সাপ্লিমেন্টের বিক্রি হু-হু করে বাড়ছে। মানুষ ভুলে যাচ্ছে যে কার্বোহাইড্রেট কমালেই ওজন দ্রুত কমে না।
দীপেশ আন্তর্জাতিক গাইডলাইনও উল্লেখ করেন। আমেরিকান মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট বলে, প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিনই যথেষ্ট। ইংল্যান্ডে নির্ধারিত মাত্রা পুরুষের ৫৫.৫ গ্রাম, মহিলার ৪৫ গ্রাম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধুমাত্র অ্যাথলিট বা দীর্ঘ সময় ধরে হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং করা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত প্রোটিনের দরকার হয়। অন্যদের নয়।
তবে সতর্কতাও দিয়েছেন দীপেশ। যাঁদের কিডনি সমস্যা আছে তাঁদের অতিরিক্ত প্রোটিন বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর প্রোটিন শেক কখনই খাবারের বিকল্প নয়। শরীর প্রকৃত খাবারই বেশি সহজে গ্রহণ করে। দীপেশ নিজেই নিয়মিত হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং করেন। তাই তিনি সাপ্লিমেন্ট নেন। তবে পরামর্শ স্পষ্ট, যারা একই মাত্রায় ব্যায়াম করেন কেবল তারাই সাপ্লিমেন্ট বিবেচনা করতে পারেন। আর নেওয়ার আগে ডাক্তার বা সার্টিফায়েড ট্রেনারের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি।