নিরামিষ খাবার খেলে আয়ু কমে?দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের প্রচলিত ধারণা রয়েছে নিরামিষ খাবার দীর্ঘায়ু দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এই দাবিকে মান্যতা দিতে নারাজ। সম্প্রতি, চিনে বয়স্ক ব্যক্তিদের উপর করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা কঠোরভাবে নিরামিষ খাবার খাচ্ছেন, তাঁদের আমিষ খাবার গ্রহণকারীদের তুলনায় বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। এই গবেষণা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শুধুমাত্র উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
চিনা বিজ্ঞানীরা ৫২০৩ জন প্রবীণ ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল খাদ্যাভ্যাস কীভাবে একজন ব্যক্তির আয়ু ১০০ বছর পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে তা বোঝা। গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার খান তারা শুধুমাত্র আমিষ খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় কম দিন বাঁচেন।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিরামিষাশী, তাঁদের ১০০ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম (প্রায় ২৯ শতাংশ)। গবেষকরা জানাচ্ছেন, খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি, বডি মাস ইনডেক্স (BMI)-ও আয়ুর উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। নিরামিষ খাবার বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ওজন ইতিমধ্যেই কম, তাঁদের জন্য শুধুমাত্র নিরামিষ আহার বিপদ ডেকে আনতে পারে, দাবি চাইনিজ গবেষকদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরামিষ খাবারে প্রায়শই ভিটামিন বি-১২, প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব থাকে, যা বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড় ভাঙা এবং অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়।
বিজ্ঞানীদের পরামর্শ কী?
গবেষকরা বলছেন, অল্প বয়সে নিরামিষ খাবার খেলে তা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু ৮০ বছর বয়সের পরে শরীরের চাহিদা বদলে যায়। তাই গবেষকরা জানাচ্ছেন,দীর্ঘায়ু পেতে হলে উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়ের পুষ্টি দিয়ে গঠিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।