নারকেল তেলের উপকারিতা। বাংলায় সাধারণত সর্ষের তেল দিয়ে রান্নাবান্না করা হয়। নারকেল তেল সাধারণত মাথায় মাখেন সবাই। শীতকালে ত্বকের জন্য উপকারী নারকেল তেল। তবে নারকেল তেলের আরও গুণাগুণ রয়েছে। নারকেল তেল স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী। দক্ষিণ ভারতে নারকেল তেলেই রান্না হয়। নারকেল তেলে রয়েছে বিবিধ পুষ্টিগুণ।
১। চনমনে শরীরের জন্য - অন্যান্য তেলের স্যাচুরেটেড ফ্যাট থেকে আলাদা নারকেল তেল। এটি স্বাস্থ্যকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যা শরীরের রোগ নিরাময়ে সহায়ক। রোগবালাই দূরে রাখে। শরীর থাকে চনমনে। ত্বক থাকে জেল্লাদার এবং কোমল। নারকেল তেলে রয়েছে ৮০%-এর বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট।
২। চর্বি গলাতে কার্যকর- এতে প্রদাহ কমানোর পুষ্টিগুণ রয়েছে। অবিশ্বাস্যভাবে উপকারী হতে পারে। শরীরে প্রদাহ কমলে থাইরয়েড/মেটাবলিজমকে ধীরে দেয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে নারকেল তেল। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মতো পুষ্টিগুণও রয়েছে। যা ওজন কমাতে সহায়ক।
৩। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ - নারকেল তেল গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তার কারণ এমসিটি পিত্ততে পরিণত হওয়ার আগে পরিপাকতন্ত্র থেকে সরাসরি লিভারে চলে যায়। অন্যান্য ধরনের চর্বির মতো শরীরে জমা হয় না। বরং এনার্জি বাড়াতে সহায়ক হয় নারকেল তেল।
৪। সংক্রমণের মোকাবিলা- নারকেল তেলে থাকে লরিক অ্যাসিড। শরীর লরিক অ্যাসিডকে মনোলোরিনে রূপান্তরিত করে। যে কারণে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পুষ্টিগুণ তৈরি হয়। যা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৫। কোলেস্টেরল কমায় -অন্যান্য তেল শরীরে কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়ায়। কিন্তু নারকেল তেল কমায় কোলেস্টেরল। প্রতিদিন নারকেল তেল খেলে কোলেস্টেরলকে প্রেগনেনলোন এবং প্রোজেস্টেরনে রূপান্তরিত করে। ফলে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় আনতে পারে এই তেল।
৬। ত্বকের জেল্লা- শীত প্রায় চলে এসেছে বাংলা। ত্বকে ধরছে টান। ত্বককে টানটান রাখতে দারুণ কার্যকরী নারকেল। ফেসপ্যাক তৈরি করতেও জুড়ি মেলা ভার। মধু ও নারকেল তেল মিশিয়ে তৈরি করে নিন ফেসপ্যাক। স্নানে যাওয়ার আগে মুখে মেখে নিন। ত্বক হবে উজ্জ্বল ও সতেজ।
৭। চুলের যত্নে- স্নানে যাওয়ার আগে চুলে মেখে নিন নারকেল তেল। তার পর শ্যাম্পু করে নিতে পারেন। নারকেল তেল সামান্য গরম করে মাথায় ম্যাসাজ করলে শরীর হালকা লাগে।
আরও পড়ুন- কম বয়সেই ক্ষয়ে যাবে হাড়, এখনই ছাড়ুন এই ৫ অভ্যাস