scorecardresearch
 

এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বন্ধ হয়ে গেল জয়ন্তী পর্যটন কেন্দ্র

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বন্ধ হয়ে গেল জয়ন্তী পর্যটন কেন্দ্র। এর জেরে ফের  বিপাকে পড়লেন জয়ন্তীর ২৫০ টি পরিবার।

শুনসান জয়ন্তীর প্রবেশ পথ শুনসান জয়ন্তীর প্রবেশ পথ
হাইলাইটস
  • অনিশ্চিত ২৫০ পরিবারের রুটি রুজি
  • হোটেল-রেস্তোরাঁ বিক্রির সিদ্ধান্ত অনেকের
  • সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর আশা নেই

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বন্ধ হয়ে গেল জয়ন্তী পর্যটন কেন্দ্র। এর জেরে ফের  বিপাকে পড়লেন জয়ন্তীর ২৫০ টি পরিবার।

বন্ধ হল জয়ন্তী
করোনার প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে কোনও মতে চলতে শুরু করেছিল জয়ন্তী পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পরতেই ফের বন্ধ ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ গালিচায় মোড়া ডুয়ার্স রানি জয়ন্তী। ফলে বিপাকে আড়াইশো পরিবার।

রুটি রুজি থমকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য
এই পর্যটন কেন্দ্রের ৯৫ শতাংশ মানুষের জীবন ধারণের একমাত্র উপার্জনের পথ পর্যটন শিল্প।  এই পর্যটন কেন্দ্রে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জঙ্গল সাফারি। এই জঙ্গল সাফারিকে কেন্দ্র করে জয়ন্তীতে ৫০ টি জিপসি গাড়ি রয়েছে। রয়েছে ৭০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। এবং সব মিলিয়ে ৭০ টির মতো হোমষ্টে, লজ, হোটেল রেস্তোরাঁ রয়েছে এই কেন্দ্রে। তাঁদের এখন অনির্দিষ্ট কালের জন্য রুটি রুজি অনিশ্চিত হয়ে গেল।

নির্বাচন পর ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ধাক্কা

করোনার প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠার পর মাত্র তিন মাস কিছু পর্যটক এসেছে এই কেন্দ্রে। তাতেই কোনও ভাবে দিন গুজরান হয়েছে সহজ, সরল স্বভাবের এই মানুষ গুলোর। তবে নির্বাচনের কারণে মার্চ মাস থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যায় ডুয়ার্সের জঙ্গল মহলে।

করোনাই কাল হল

নির্বাচনের হাত ধরেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রবেশ করেছে বাংলার মাটিতে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে আংশিক লক ডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই আংশিক লকডাউনের সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল জয়ন্তী পর্যটন কেন্দ্র।

চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

জয়ন্তী বন্ধ হয়ে যাওয়াতে গাড়ির পারমিট খরচ, ড্রাইভারের বেতন, বিদ্যুতের বিল, গাড়ির ইনস্যুরেন্সের টাকা, মাসিক কিস্তি, হোটেল লজের স্টাফদের বেতন নিয়ে গভীর চিন্তা গ্রাস করেছে পর্যটন ব্যাবসায়ীদের।

খরচ বাঁচাতে হোটেল হোমস্টে বিক্রির সিদ্ধান্ত অনেকের 

বেশ কিছু পর্যটন ব্যাবসায়ী ইতিমধ্যেই গাড়ি, হোমষ্টে, হোটেল, রেস্তোরাঁ বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। আগামী জুন মাসের ১৫ তারিখ থেকে এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে উত্তরবঙ্গের সমস্ত জঙ্গল। জঙ্গল বন্ধ থাকবে সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। নির্বাচন শেষ হতেই পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন জয়ন্তীর বাসিন্দারা। নির্বাচন পর্ব মিটতেই জয়ন্তী পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিল প্রশাসন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

আলিপুরদুয়ার জেলা ট্যুরিজম এ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ গৌতম রায় বলেন আমাদের সাথে ১০ দিন আগে জেলা শাসকের দপ্তর ডুয়ার্স কন্যায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে এই পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের কোন নির্দেশ দেননি তিনি। তবে কোভিড-১৯ প্রটোকল মেনে পর্যটকদের রাখার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। আজ আচমকাই বন্ধ করে দেওয়া হলো এই পর্যটন কেন্দ্রটি।  এখনও জানিনা জয়ন্তী বন্ধ করে দেবার কোন সরকারি নির্দেশিকা এসেছে কিনা। আলিপুরদুয়ার জেলা শাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।