
আসন্ন দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সের দুই অরণ্যে দেখা যাচ্ছে দুই ভিন্ন ছবি। ৩ ও ৪ মার্চ হোলি উপলক্ষে লাটাগুড়ি জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে গোরুমারায় এখনও পর্যন্ত সাফারি বন্ধের কোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি।

বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, লাটাগুড়ি রেঞ্জে দু’দিন জঙ্গল সাফারিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। ফলে ওই সময় পর্যটকেরা জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারবেন না। আগামী ৫ মার্চ থেকে ফের স্বাভাবিক ভাবে সাফারি চালু হবে।

লাটাগুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, হোলি উৎসবের সময় বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরই দোলের সময় দু’দিন জঙ্গল বন্ধ রাখার রীতি রয়েছে।

অন্যদিকে গোরুমারা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সাফারি বন্ধের কোনও আলাদা নির্দেশিকা প্রকাশ হয়নি। তবে বন দপ্তর জানিয়েছে, গোরুমারার নজরমিনারগুলো দোলের সময় পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে।

গোরুমারা সাউথের রেঞ্জার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস জানিয়েছেন, হোলিকে সামনে রেখে জঙ্গলে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। বনরক্ষীরা টহলদারি বাড়িয়েছেন, যাতে কোনও ধরনের অবৈধ শিকার বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না হয়।

প্রতি বছর দোল উৎসবের সময় একশ্রেণির মানুষ শিকার উৎসবে মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কারণেই লাটাগুড়ি ও গোরুমারায় সাধারণত দু’দিন পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। এ বার লাটাগুড়িতে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও গোরুমারায় আংশিক খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব জানিয়েছেন, দোল উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক ডুয়ার্সে আসেন। গোরুমারা খোলা থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই ভিড় কিছুটা বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সব মিলিয়ে দোলের আবহে ডুয়ার্সে পর্যটন ও বন সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন। পর্যটকদেরও বন দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।