
ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন এপ্রিল। সমতলেও শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত, তখন পাহাড়েও তুষারপাত শুরু হয়েছে।

সিকিমের পাশাপাশি সান্দাকফু-ফালুটেও তুষারপাত শুরু হয়েছে।

সোমবার রাত থেকেই তুষারপাত শুরু হয়েছিল সিকিমে। বুধবার থেকে সান্দাকফুতেও তুষারপাত শুরু হয়েছে।

সাদা বরফের পুরু চাদরে ঢেকেছে ভারত-নেপাল সীমান্তের সান্দাকফু। তুষারপাত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ফালুটেও। বসন্তের এই মরসুমে এমন বরফ বৃষ্টির ঘটনা কার্যত বিরল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,৯৩০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সান্দাকফুতে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টি ও ভারী তুষারপাত চলতে পারে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, রবিবার পর্যন্ত সিকিম ও দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকায় দুর্যোগের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তুষারপাতের জেরে পাহাড়ি পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার খাতিরে আপাতত উঁচু এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অসময়ে বরফের দেখা মেলায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা খুশি। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে পর্যটকদেরও। বরফের গোলা বানিয়ে খেলতে দেখা হয়েছে বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলকেই।

রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু জানান, মার্চ-এপ্রিল মাসে সান্দাকফুতে এমন ধারাবাহিক তুষারপাত সচরাচর দেখা যায় না। খবর পেয়ে তাই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।

তবে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের কপালে। দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে তাঁদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আপাতত ঝোড়ো হাওয়া আর তুষারপাতের দাপটে খানিকটা থমকে শৈলশহর। দার্জিলিঙ শহরে তুষারপাত না হলেও জোলো হাওয়া ও বৃষ্টিতে কনকনে ঠান্ডা ফিরেছে আবার। ঠান্ডা সমতলেও।