তাঁর আশীর্বাদ পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট দেবতার পুজো বিশেষভাবে ফলদায়ী বলে মনে করা হয়। শনিদেবের শান্ত ও করুণাময় রূপ পাওয়া সহজ নয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি গ্রহকে শৃঙ্খলা, কর্মফল, ধৈর্য এবং ন্যায়ের প্রতীক বলা হয়। তাই তাঁর আশীর্বাদ পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট দেবতার পুজো বিশেষভাবে ফলদায়ী বলে মনে করা হয়। কারণ এই দেবতারা শনির শক্তিকে সঠিক রাস্তায় চ্যানেল করে, মনকে স্থির রাখে এবং জীবনের বাধা কমাতে সাহায্য করেন।
প্রথমেই যাঁর নাম আসে, তিনি মহাদেব শিব। শাস্ত্র মতে, শিবই হলেন শনির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। ‘কৈলাসপতি’র ধ্যান ও অভিষেক শনিকে শান্ত করে। শিবলিঙ্গে জল বা দুধ ঢাললে, কালসর্বারিসহ মনস্থিরতা বাড়ে এবং শনির কঠোর ফল অনেকটাই লঘু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোমবার শিবের আরাধনা জীবন থেকে ভয়, দুশ্চিন্তা ও প্রতিবন্ধকতা কমায়।
দ্বিতীয়ত, হনুমানজির পুজো শনির কৃপা পেতে অত্যন্ত শুভ। রামায়ণের গল্প অনুযায়ী, হনুমানই একমাত্র দেবতা যাঁর ভক্তদের Shani Dev নিজেই সুরক্ষা দেন। তাই শনিবার হনুমানের কাছে প্রার্থনা, বাজরং-বলির পাঠ, বা হনুমান চালিশা পাঠ করলে দুর্ভাগ্য দূর হয়। কর্মজীবনে স্থিতি আসে এবং মানসিক শক্তিও বাড়ে।
তৃতীয়ত, কালভৈরব বা ভৈরব দেবের আরাধনাও শনিকে প্রশমিত করে বলে বিশ্বাস। তিনি সময়, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বোধের প্রতীক। ভৈরবের পুজো করলে জীবনে অপ্রত্যাশিত বাধা কমে, মনোসংযোগ বাড়ে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
চতুর্থত, নীলমাধব বা কৃষ্ণের নামজপও শুভ বলে মনে করা হয়। ভগবান কৃষ্ণের আরাধনা জীবনে সামঞ্জস্য, বুদ্ধি এবং ধারাবাহিকতা আনে, যা শনির কঠোর পরীক্ষার সময়ে বিশেষ প্রয়োজন।
শেষে, শনি যাঁর ওপরে প্রসন্ন হন, তিনি কখনও ভক্তকে ছেড়ে যান না। নিয়মিত প্রার্থনা, সত্য ভাষণ, সংযমী জীবনযাপন এবং সৎ কাজে মনোনিবেশ করা, এই অভ্যাসগুলোই শনি কৃপা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।