scorecardresearch
 

মাছ খাচ্ছেন ? না প্লাস্টিক ! মাছের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে মারণ বিষ, জানেন ?

মাছ ছাড়া চলে না ? তাহলে এবার বোধহয় অভ্য়াস বদলানোর সময় এসেছে। কারণ মাছের নামে খাচ্ছেন প্লাস্টিক। গবেষণার রিপোর্টে চাঞ্চল্য। বিশেষ করে দুই বাংলার মানুষের কাছে এই রিপোর্ট মৃত্যু পরোয়ানার চেয়ে কম নয়।

বিপদের তালিকায় উপরের দিকে পুঁটি বিপদের তালিকায় উপরের দিকে পুঁটি
হাইলাইটস
  • মাছের শরীরে প্লাস্টিকের কণা
  • মাছ খেয়ে মানুষের শরীরে ঢুকছে প্লাস্ট
  • অবধারিত নানা রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে

সব মাছেই বিষ

ইলিশ নিয়ে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিল ভারতীয় গবেষকরা। এবার ইলিশ কিংবা সামুদ্রিক মাছই শুধু নয়, দুই- বাংলার রোজকার পাতের মাছেও বিষ খুঁজে পেল খোদ বাংলাদেশের গবেষকরাই। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে ৭৩ শতাংশ মাছেই রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। যা মানুষের দেহকে স্লো-পয়জন করে দিচ্ছে।

মাথায় হাত বিজ্ঞানীদের

এই গবেষণা রিপোর্ট সামনে আসার পর মাথায় হাত বিজ্ঞানীদেরও। কারণ তাঁরাও বাঙালি। ফলে মাছের প্রতি আকর্ষণ কিংবা মাছ ছাড়া দুবেলা আহার তাঁদের পক্ষেও কষ্ট কল্পনা। কিন্তু সত্যিটাকে তো অস্বীকার করতে পারছেন না তাঁরা। ফলে চিন্তায় পড়েছেন তাঁরাও। কারণ এর প্রতিকারের উপায় প্রায় নেই, মাছ খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া।

রুই

কোন কোন মাছে মিলেছে প্লাস্টিক

যেসব মাছের পেটে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে রুই, তেলাপিয়া, কই, কালবাউস, বেলে, ট্যাংরা, কমন কার্প, পাবদা, পুঁটি, শিং, টাটকিনি, বাইন, বাটা, মেনি ও বাচা। তার মধ্যে ট্যাংরা, টাটকিনি ও মেনি মাছে বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছে।

কাদের গবেষণায় মিলেছে তথ্য !

দেশি মাছের ওপর এই গবেষণাটি চালিয়েছে বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ। তাতে বলা হয়েছে, বাজারে পাওয়া যায় এমন দেশি মাছের ওপর গবেষণা করে জানা যায় যে ১৫ প্রজাতির মাছে প্লাস্টিকের এই ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি রয়েছে।

কি ধরণের প্লাস্টিক মিলছে মাছের শরীরে ?

যেসব প্লাস্টিক পলিমার পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে হাই ডেনসিটি পলিথিলিন, পলিপ্রোপাইলিন-পলিথিলিন কপোলাইমার এবং ইথিলিন ভিনাইল এসিটেট। এই গবেষণা রিপোর্টটি সম্প্রতি পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক জর্নাল সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্টে প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি তার বিবিসি সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশও হয়েছে এই রিপোর্ট।

পাবদা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে মাছগুলি 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাছে বিভিন্ন বাজার থেকে মাছগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল। মোট ১৭ প্রজাতির ৪৮ টি মাছ সংগ্রহ করা হয়। যেসব মাছ পাওয়া যায় সেগুলো বুড়িগঙ্গা, তুরাগ নদী কিংবা আশেপাশের খাল থেকে ধরা হয় বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। গবেষকরা বলছেন, বড় মাছের পাশাপাশি, ছোট মাছেও যে প্লাস্টিকের কণা রয়েছে এই গবেষণা থেকে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়াও দেখা গেছে যে সব মাছ জলের সবচেয়ে নীচের স্তরে বাস করে, তাদের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি।

কীভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক আসছে জলে ?

আমরা বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য ব্যবহার করি, যেমন টুথপেস্ট, ফেসওয়াশ, যেগুলোতে ছোট ছোট কণা থাকে। এগুলো আসলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের কণা। এগুলো জলের মধ্যে চলে যায় এবং মাছ এগুলোকে খাবারের সাথে ভুল করে খেয়ে ফেলে।

মাছে খেলেই মানুষের শরীরে

বিশ্বের একাধিক গবেষণায় মাছের পেশি, চামড়া, মাংস ও লিভারেও প্লাস্টিক মিলেছে। ফলে মাছ খেলে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা মানুষের দেহেও চলে আসবে। মাছ ও মানুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক।

নানা ধরণের অসুখের ডিপো প্লাস্টিক

"মাছ যখন মাইক্রোপ্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে তখন তাদের মধ্যে ক্ষুধামন্দা ও ঝিমুনি দেখা যায়," এই ঝিমুনি সংক্রমিত হতে পারে মানুষের মধ্যেও। ওই প্লাস্টিক থেকে যেসব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হচ্ছে, সেগুলো মাছের দেহে জমা হয়। এসব বিষাক্ত রাসায়নিক মানুষের শরীরে যাচ্ছে এবং এর ফলে স্তন ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অসুখ হতে পারে বলে গবেষণায় জানা গিয়েছে। পাচন যন্ত্রের সমস্যা এমনকী ক্যান্সারের মতো রোগও হতে পারে।

 

 
; ; ;