
সিয়াচেনের নিরাপত্তায় ভারতের কত খরচ? সিয়াচেন। মাইনাস তাপমাত্রার এই জায়গা রক্ষায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভারত। সবসময় মোতায়েন থাকে ৩ হাজার সেনা। পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে, সিয়াচেন তাদের। সিয়াচেন দেশের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সিয়াচেনে থাকা সেনাদের জন্য ভারত সরকার প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করে। এতে সৈন্যদের ইউনিফর্ম, জুতো এবং স্লিপিং ব্যাগও রয়েছে।
গত বছরই সিয়াচেন হিমবাহে মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের ব্যক্তিগত কিট দেওয়া হয়েছিল। যাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মোকাবিলা করতে পারেন। এখানকার আবহাওয়া এতটাই খারাপ যে শুধুমাত্র বন্দুক বা ধাতু স্পর্শ করলেই অঙ্গ বিকল হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ থাকলে শ্রবণ ও দর্শনের সমস্যা হয়। ক্ষীণ হতে থাকে স্মৃতিশক্তি। সিয়াচেন হিমবাহে থাকা সৈন্যদের ব্যক্তিগত কিটের দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে এই পোশাক। কখনও কখনও ১৭০-১৮০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া চলে। যার সঙ্গে মিশে থাকে বরফ। এত প্রবল বরফের বাতাসে বেঁচে থাকা প্রচণ্ড কঠিন। গত বছর এই ব্যক্তিগত কিটগুলি জওয়ানদের দেওয়ার পর সিয়াচেন সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে।
ব্যক্তিগত কিটে ইউনিফর্ম সবচেয়ে দামি
সিয়াচেনে জওয়ানদের ব্যক্তিগত কিটের সবচেয়ে দামি বস্তু, বহুস্তরযুক্ত ঠান্ডারোধী পোশাক। এর দাম প্রায় ২৮ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে একটি স্লিপিং ব্যাগও দেওয়া হয়। যার আলাদা দাম ১৩ হাজার টাকা। ডাউন জ্যাকেট এবং বিশেষ গ্লাভসের দাম প্রায় ১৪,০০০ টাকা। জুতোর দাম ১২,৫০০ টাকা।
ব্যক্তিগত কিটে শুধুই কাপড়-জুতো বা ব্যাগ থাকে না,একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে, যার দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সিয়াচেনে প্রায়ই কমে যায় অক্সিজেনের মাত্রা। তখন প্রয়োজন পড়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের। তুষারধসে চাপা সঙ্গীদের খুঁজে বের করার জন্য যন্ত্রপাতির দাম প্রায় ৮০০০ টাকা। আর সিয়াচেন হিমবাহে প্রতিনিয়ত তুষারপাত হচ্ছে।

সিয়াচেনে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেরই বেশি জওয়ান মারা গিয়েছে অক্সিজেনের অভাব, তুষারপাত এবং তুষার ঝড়ে। বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৫০ ডিগ্রির নিচে। একটি হিসেব অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মোট ২৫০০ সেনা এখানে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বেস ক্যাম্পে একটি তুষারধসে ১২৪ জন জওয়ান মারা যান।
১৯৮৪ সালে সিয়াচেনকে একটি সামরিক ঘাঁটি করা হয়েছিল। তার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র খারাপ আবহাওয়ার কারণে ৮৬৯ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছে।
আরও পড়ুন- Jio থেকে সরলেন মুকেশ অম্বানি, ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা