scorecardresearch
 

Raj Kapoor: সিনেমা, শবাব আর শরাবে অনুরক্ত ছিলেন বলিউডের 'শোম্যান'

রাজ কাপুরের জীবনে সবচেয়ে বড় Irony ছিল বিয়ের ৪ মাস বাদে নার্গিসের সঙ্গে দেখা হওয়া! কী অদ্ভূত ভালোবাসায় মোড়া ছিল তাঁদের ৯ বছরের ফিল্মি জীবন। অন্দাজ ছবির সেটে দেখা দুজনের। তত দিনে নার্গিস প্রতিষ্ঠিত স্টার। ৮টি হিট ছবির মালকিন। অন্য দিকে রাজ কাপুর সদ্য পা জমানোর চেষ্টা করছেন বলিউডে। প্রথম দর্শনেই যাকে বলে প্রচণ্ড টান অনুভব করেছিলেন একে অপরের প্রতি। স্বভাবপ্রেমিক রাজ নার্গিসের অমোঘ আকর্ষণ উপেক্ষা করতে পারেননি।

রাজ কাপুর - নার্গিস রাজ কাপুর - নার্গিস
হাইলাইটস
  • প্রেম এতটাই গভীর ছিল যে নার্গিস তাঁর সমস্ত সময়, অভিনয় এমনকী অর্থ পর্যন্ত রাজ কাপুরের সিনেমায় দিয়েছিলেন, নির্দ্বিধায়।
  • ১৯৫৮-তে বিয়ে সেরে ফেলেন নার্গিস-সুনীল। এটা ছিল রাজ কাপুরের কাছে বিরাট ধাক্কা। খবর শোনার পর রাজ কাপুর বেশ কয়েকবার জ্বলন্ত সিগারেট নিজের হাতে চেপে ধরেছিলেন, এটা বোঝার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখছেন কিনা।
  • প্রায় প্রতি দিনই আকণ্ঠ মদ্যপান করে টলতে টলতে কোনও ক্রমে বাড়িতে ঢুকে বাথটাবে শুয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতেন রাজ। নার্গিসকে ভোলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

বলিউডের সবচেয়ে কম বয়সি পরিচালক আর চিত্রনির্মাতা। মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিজের আলাদা স্টুডিও তৈরি করে ফেলেছিলেন রাজ কাপুর (Raj Kapoor)। দ্য শোম্যান অফ বলিউড (The Show Man Of Bollywood)। ১০ বছর বয়সে অভিনয়ের হাতেখড়ি। খুব কম বয়সেই বুঝে গিয়েছিলেন সিনেমা ছাড়া তিনি অসম্পূর্ণ। উল্টো দিকে এ কথাও সত্যি, ভারতীয় সিনেমা রাজ কাপুর ছাড়া অসম্পূর্ণ। কোনও দিন এই নামটি ছাড়া ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়।

তা এ হেন রাজ কাপুরের জীবনে সবচেয়ে বড় Irony ছিল বিয়ের ৪ মাস বাদে নার্গিসের সঙ্গে দেখা হওয়া! কী অদ্ভূত ভালোবাসায় মোড়া ছিল তাঁদের ৯ বছরের ফিল্মি জীবন। অন্দাজ ছবির সেটে দেখা দুজনের। তত দিনে নার্গিস প্রতিষ্ঠিত স্টার। ৮টি হিট ছবির মালকিন। অন্য দিকে রাজ কাপুর সদ্য পা জমানোর চেষ্টা করছেন বলিউডে। প্রথম দর্শনেই যাকে বলে প্রচণ্ড টান অনুভব করেছিলেন একে অপরের প্রতি। স্বভাবপ্রেমিক রাজ নার্গিসের অমোঘ আকর্ষণ উপেক্ষা করতে পারেননি। একই ভাবে নার্গিসও রাজ কাপুরকে ভালোবেসেছিলেন।

প্রেম এতটাই গভীর ছিল যে নার্গিস তাঁর সমস্ত সময়, অভিনয় এমনকী অর্থ পর্যন্ত রাজ কাপুরের সিনেমায় দিয়েছিলেন, নির্দ্বিধায়। আইনি মতে বিয়ে যে সম্ভব নয় তা নার্গিস নিজেও জানতেন। কারণ রাজ কাপুর তখন বিবাহিত। কয়েক সন্তানের বাবা-ও হয়ে গিয়েছেন। তবুও ভালোবাসার খাতিরে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলেন নার্গিস। গোপনে হলেও। কিন্তু রাজ তখন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত। নার্গিস ধীরে ধীরে বুঝতেও পারছিলেন রাজের ব্যবহার পাল্টে যাচ্ছে। রাগে দুঃখে অভিমানে রাজ কাপুর ফিল্ম ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৫৬ সালে তাঁরা এক সঙ্গে শেষ ছবি চোরি চোরি-তে অভিনয় করেন। ১৯৫৭ সালে রাজ কাপুরকে না জানিয়েই মাদার ইন্ডিয়া সাইন করেন তিনি।

এই ধাক্কা নিতে পারেননি রাজ কাপুর। এখানেই শেষ নয়। মাদার ইন্ডিয়ার সেটে হঠাৎই একদিন আগুন লাগে। নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে নার্গিসের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সুনীল দত্ত। দুর্ঘটনায় তিনি বেশ খানিকটা পুড়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে হাসপাতালে পর্যন্ত ভরতি করতে হয়। শোনা যায়, হাসপাতালে সুনীলের বেডের পাশে রাতের পর রাত জেগেছেন নার্গিস। সেই থেকে প্রেম। ১৯৫৮-তে বিয়ে সেরে ফেলেন নার্গিস-সুনীল। এটা ছিল রাজ কাপুরের কাছে বিরাট ধাক্কা। খবর শোনার পর রাজ কাপুর বেশ কয়েকবার জ্বলন্ত সিগারেট নিজের হাতে চেপে ধরেছিলেন, এটা বোঝার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখছেন কিনা।

এর পর থেকে মদ্যপানের মাত্রা বাড়ে রাজের। ঋষি কাপুর তাঁর আত্মজীবনী খুল্লম খুল্লা-তে লিখেছেন, 'মাঝরাতে পাপার গাড়ির শব্দ হলেই ভাই-বোনেরা মাথা পর্যন্ত চাদর টেনে বিছানায় মিশে যেতাম। অসংলগ্ন পায়ের শব্দ আর গানের সুর এগিয়ে আসত, আমাদের বুক ধড়াস ধড়াস করত। শব্দ মিলিয়ে গেলে কান খাড়া করে শুনতাম মায়ের ঘর থেকে চেঁচামেচি আসছে কি না।' প্রায় প্রতি দিনই আকণ্ঠ মদ্যপান করে টলতে টলতে কোনও ক্রমে বাড়িতে ঢুকে বাথটাবে শুয়ে হাউ হাউ করে কাঁদতেন রাজ। নার্গিসকে ভোলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

তবে কেউ যদি মনে করে থাকেন, এটাই ছিল তাঁর শেষ অ্যাফেয়ার, তা হলে ভুল ভাবছেন। এর পরও একাধিক নায়িকার সঙ্গে রাজ কাপুরের সম্পর্কের কথা শোনা যায়। যাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চিত বৈজন্তীমালা। এমনও শোনা গিয়েছিল, তাঁরা লুকিয়ে বিয়ে পর্যন্ত করেন। পরে ঘটনা জানাজানি হতে বৈজন্তীমালা জানান, ওটা ফিল্মের প্রোমোশন স্টান্ট ছিল! স্টান্ট ছিল কিনা জানা নেই, তবে এর জেরে ছেলে মেয়ে নিয়ে নটরাজ হোটেলে উঠে যান রাজের স্ত্রী কৃষ্ণা। ২ মাস হোটেলে থাকায় শহরে কারও জানতে বাকি ছিল না কাপুর পরিবারে কী চলছে। ২ মাসের মধ্যে চিত্রকূট অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট কিনে দেন রাজ। সন্তানদের নিয়ে সেখানেই চলে যান কৃষ্ণা।

রাজ কাপুরের অ্যাফেয়ারের তালিকায় আরও দুটি নামের উজ্জ্বল নামের উপস্থিতি রয়েছে। প্রথমটি মেরা নাম জোকার সিনেমার অন্যতম মুখ পদ্মিনী। দ্বিতীয় জন জিনত আমান। সত্যম শিবম সুন্দরম সিনেমার সেটে জিনতের সঙ্গে রাজের ঘনিষ্টতা হয় বলে শোনা গিয়েছিল। একই ভাবে মেরা নাম জোকারের সেটে ছিলেন পদ্মিনী। স্ত্রী কৃষ্ণা তত দিনে বুঝে গিয়েছিলেন, এক নারীতে রাজ কখনও সন্তুষ্ট থাকবেন না। তবে এটাও ঠিক, সংসার, সন্তান ছেড়ে রাজ-ও অন্য কারও সঙ্গে ঘর বাঁধতে রাজি ছিলেন না।

নার্গিসের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার বহুদিন পর একটি পার্টিতে নার্গিসের সঙ্গে কৃষ্ণার দেখা হয়। নার্গিস তাঁকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে কথা বলেন। জানান, কৃষ্ণার জীবনে বহু ঝড় ঝাপটা এসেছে তাঁর জন্য। সব কিছুর জন্য ক্ষমা চান নার্গিস। কৃষ্ণা ক্ষমা তো করেছিলেনই, তার সঙ্গে জবাব দিয়েছিলেন, 'আমি না থাকলে অন্য কেউ থাকবে। রাজ তো এমনই।'

হ্যাঁ, রাজ কাপুর এমনই। ঋষি কাপুর তাঁর আত্মজীবনীতে স্বীকার করে গিয়েছেন, 'মা বেঁচে থাকতে বাবা-র বায়োপিকের অনুমতি কখনও দেওয়া হবে না। আর বায়োপিক হলে ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ ফাঁপড়ে পড়বেন।' ৩ বছর আগে চলে গিয়েছেন কৃষ্ণা। চলে গিয়েছেন ঋষি এবং রাজীবও। হয়তো এ বার বায়োপিক হতে পারে। মাঝে শোনাও গিয়েছিল রণবীর কাপুর রাজের চরিত্রে অভিনয় করবেন। আদপে তা কতটা হয়, সময় বলে দেবে।