Murder Case Psychology: তিন প্রান্তে খুন করে দেহ টুকরো, অপরাধীদের অনুপ্রেরণা কি ক্রাইম থ্রিলার?

তিনটে ঘটনায় অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষ। কেউই হাত পাকিয়ে ফেলা অপরাধী নয়। প্রত্যেকেই খুন করেছে পরিচিতকেই। তাহলে কি কোথাও প্রভাব ফেলছে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম থ্রিলার? খুন করেও তাই ঠান্ডা মাথায় দেহ লোপাঠ করতে পারছে অপরাধীরা? ঘটনার তাৎক্ষণিকতা কোনও প্রভাবই ফেলছে না তাদের মনে?

Advertisement
তিন প্রান্তে খুন করে দেহ টুকরো, অপরাধীদের অনুপ্রেরণা কি ক্রাইম থ্রিলার?আবু বকর-উজ্জ্বলের ছেলে-আফতাব।
হাইলাইটস
  • দিল্লিতে প্রেমিকাকে খুন করে দেহ লোপাঠ।
  • বারুইপুরে বাবাকে খুন।
  • বাংলাদেশে প্রেমিকা কবিতা রানিকে খুন।

দিল্লির শ্রদ্ধার, বাংলাদেশের কবিতা রানি, তার পর বারুইপুরের প্রাক্তন সেনা কর্মী- দিন কয়েকের ব্যবধানে প্রতিটি খুনের নেপথ্যেই একই ছক। অথচ আলাদা আলাদা জায়গা। একটা সঙ্গে একটার ব্যবধান কয়েক কিলোমিটার। তা সত্ত্বেও এতটা মিল কীভাবে? জেরায় আফতাব স্বীকার করেছিল, মার্কিন সিরিজ দেখেই শ্রদ্ধাকে খুনে মতলব এঁটেছিল। বাকিদের 'অনুপ্রেরণা'ও কি ক্রাইম থ্রিলার? 

ঘটনা ১ 

দিল্লির মেহরৌলিতে শ্রদ্ধা ওয়াকারের সঙ্গে একত্রবাস করত আফতাব আমিন পুনওয়ালা। শ্রদ্ধার শ্বাসরোধ করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দিয়েছে সেই পুরুষসঙ্গী। মিকাকে খুন করার পর দেহ লোপাট করার ছক কষা কষেছিল মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ় 'ডেক্সটার'-এর আদলে। ওই সিরিজে ডেক্সটার ছিলেন এক জন সিরিয়াল কিলার। ছোটবেলায় মাকে খুন হতে দেখে ডেক্সটার মানসিক স্থিতাবস্থা হারান। বড় হয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অপরাধী খুন করতে শুরু করে। মৃতদেহগুলিকে টুকরো টুকরো করে মহাসাগরে ভাসিয়ে দিতেন ডেক্সটার। ফলে সেগুলি আর খুঁজে পাওয়া যেত না। সেই নৃশংস ক্রাইমথ্রিলারই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল আফতাবকে।  

ঘটনা ২

বারুইপুরে নৌসেনা কর্মী উজ্জ্বল চক্রবর্তীর সঙ্গে ৩ হাজার টাকা নিয়ে বচসা হয়েছিল ছেলের। বাবার গলা টিপে খুন করে সে। তার পর দেহ ৬ টুকরো করে সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসে। ঘটনায় ছেলে ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। 


ঘটনা ৩ 

বাংলাদেশের সোনাডাঙায় প্রেমিকা কবিতা রানিকে শ্বাসরোধ হত্যা করে আবু বকর। তার পর তার দেহ তিন টুকরো করে তারা। আবু বকরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিজে বিবাহিত সে কথা লুকিয়ে প্রেম করছিল আবু। প্রেমিকা জেনে যাওয়ায় তাঁকে খুন করে।   


খুনের পর দেহ টুকরো করে দেওয়ার পিছনে অপরাধীর মনস্তত্ব থাকে, সেটি যাতে কেউ চিনতে না পারে। আর দেহাংশ আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলে আসলে সহজে অপরাধ প্রমাণিতও হবে না। ধরাও যাবে না। বড় লাশ ফেললে সহজেই সনাক্ত করার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু দেহের টুকরোর ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা নেই। শ্রদ্ধা ওয়াকারের দেহের একাংশ এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ। দেহ খুঁজে না পেলে খুন প্রমাণ করাও বেশ কঠিন! অপরাধীরা এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করছে। তিনটে ঘটনায় অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষ। কেউই হাত পাকিয়ে ফেলা অপরাধী নয়। প্রত্যেকেই খুন করেছে পরিচিতকেই। তাহলে কি কোথাও প্রভাব ফেলছে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম থ্রিলার? খুন করেও তাই ঠান্ডা মাথায় দেহ লোপাঠ করতে পারছে অপরাধীরা? ঘটনার তাৎক্ষণিকতা কোনও প্রভাবই ফেলছে না তাদের মনে?

Advertisement

মনস্তত্ববিদরা বলছেন, নিশ্চিতভাবে নানা ধরনের ওয়েব সিরিজ, সিরিয়াল প্রভাব ফেলে। সেগুলি মাথায় ঘোরে। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সিনেমা দেখে বেরানোর পর মানুষ সেই চরিত্রের মতো হাবভাব করে। নিজেকে সেই চরিত্রে দেখে।  

আরও পড়ুন- এবার আরও বেশি মহিলা পাবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, এই শর্তও তুলে দিল সরকার

POST A COMMENT
Advertisement