Shreyas Iyer, suryakumar ২০২৬ সালে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। তারপরও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে স্কাইকে। কারণ তাঁর ব্যাট কথা বলছে না। চলতি আইপিএলে একের পর এক সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ভারতীয় ক্রিকেটে ফের ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট ফিরতে পারে। সেবার রোহিত শর্মার নেতৃত্বেও ২০ ওভারের টুর্নামেন্ট জিতলেও দলে ব্যাপক রদবদল এসেছিল। সূর্যকুমারের হাতে ব্যাটন তুলে দিয়েছিলেন হিটম্যান। এখন সূর্যকুমারের হাত থেকেও দলের দায়িত্ব কেড়ে নিতে পারে বিসিসিআই। নতুন অধিনায়ক হতে পারেন শ্রেয়স আইয়ার।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দাবি, অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা নিশ্চিতভাবেই বড় সাফল্য। তবে শুধু মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেই টিমে জায়গা পাকা থাকবে, সেই দিন আর ভারতীয় ক্রিকেটে নেই। সেটাই চিন্তায় রাখতে পারে সূর্যকে। বিশ্বকাপে আমেরিকার বিরুদ্ধে ৮৪ রানের ইনিংস ছাড়া আর ভালো পারফর্ম করতে পারেননি তিনি। পরের আট ইনিংসে তাঁর ব্যাটে উঠেছিল মাত্র ১৫৮ রান। এমন কী নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালেও শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। সামনে রয়েছে আমেরিকা সফর। তারপরই ২০২৮-এর অলিম্পিক। এই সব কর্মসূচির দিকে নজর রেখে সূর্যকুমারের জায়গার বড় দাবিদার হয়ে উঠছেন শ্রেয়স আইয়ার।
অধিনায়ক শ্রেয়সের উত্থান
শ্রেয়স কোনওদিনই সেভাবে প্রচারের আলোয় থাকেন না। তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি সফল। তাঁর উত্থানও চমকপ্রদ। অন্তত তথ্য সেই কথা বলছে। ২০২০ সালে এই শ্রেয়সের নেতৃত্বেই দিল্লি ক্যাপিটালস প্রথমবার আইপিএল ফাইনালে উঠেছিল। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ফাইনালে জেতান। গতবারও তিনিই ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন পঞ্জাবকে। চলতি বছরও এখনও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তাঁর দল।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রেয়সের নেতৃত্বের বড় বৈশিষ্ট্য হল শান্ত স্বভাব ও সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। চাপের মুহূর্তেও তিনি বিচলিত হন না। বরং পরিকল্পিতভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।
ঘরোয়া ক্রিকেটও অধিনায়ক হিসেবে তিনি বারবার নিজেকে প্রমাণ করছেন। মুম্বইকে সৈয়দ মুজতবা আলি ট্রফি জেতান। রঞ্জিতে ৫ ম্যাচে ৪৮০ রান করেছিলেন। গড় প্রায় ৭০।
ভারতীয় দলের নির্বাচকরাও শ্রেয়সকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য তাঁকে ভারতের ওডিআই দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ দলে ফেরানো হয়েছে। ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি টি২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি, কিন্তু তারপর থেকে ৪৭ ম্যাচে ১৫০৮ রান করেছেন। তাঁর স্ট্রাইক রেটও ভালো। ফলে অধিনায়ক হিসেবে তিনি যেমন ভালো, তেমনই আবার ভালো ব্যাটও করছেন দিনের পর দিন।
ভারতের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক?
শ্রেয়স আইয়ার একজন 'প্লেয়ারস ক্যাপ্টেন'। রিকি পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর নেতৃত্বে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। পঞ্জাব কিংসের বোলার বিজয়কুমার তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছেন, 'আইয়ার সবসময় খেলোয়াড়দের সমর্থন করেন এবং দলের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারেন। তাঁর দরজা সবসময় খোলা। যে কেউ সহজে কথা বলতে পারে।'
২০২৬ মরশুমে পঞ্জাব কিংস এখনও অপরাজিত। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং শিরোপা জেতে প্রীতি জিন্টার দল তাহলে ভারতের পরবর্তী টি২০ অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারকে উপেক্ষা করা কঠিন হবে।
সব দিক দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দাবি, সূর্যকুমার আবার ফর্মে ফিরলে তিনিই অধিনায়ক থাকবেন। কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে শ্রেয়স আইয়ারকে অধিনায়ক হিসেবে দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব।