তিলক-বিক্রমে ধরাশায়ী পঞ্জাব, রুদ্ধশ্বাস জয়ে প্লে-অফের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখল MI

২০০ রানের পাহাড় সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বই যখন ধুঁকছিল, ঠিক সময়মতো জ্বলে উঠলেন তিলক ভার্মা। তিনি দেশের হয়ে একাধিকবার এই কাজ করেছেন। এদিন করলেন ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটে ভর করেই এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল মুম্বই।

Advertisement
তিলক-বিক্রমে ধরাশায়ী পঞ্জাব, রুদ্ধশ্বাস জয়ে প্লে-অফের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখল MIতিলক-বিক্রমে ধরাশায়ী পঞ্জাব, রুদ্ধশ্বাস জয়ে প্লে-অফের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখল MI

PBKS vs MI Full Match Highlights: ধরমশালার পাহাড় ঘেরা স্টেডিয়ামে তখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। আইপিএলের ৫৮ নম্বর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাঞ্জাব কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ২০০ রানের পাহাড় সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বই যখন ধুঁকছিল, ঠিক সময়মতো জ্বলে উঠলেন তিলক ভার্মা। তিনি দেশের হয়ে একাধিকবার এই কাজ করেছেন। এদিন করলেন ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটে ভর করেই এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল মুম্বই। এই জয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে রইল জসপ্রীত বুমরাহর দল, অন্যদিকে টানা পাঁচ ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল প্রীতি জিন্টার দলের।

টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুম্বই অধিনায়ক বুমরাহ। শুরুতে প্রিয়াংশ আর্যর (২২) উইকেট হারিয়েও দমে যায়নি পাঞ্জাব। সৌজন্যে প্রভসিমরান সিং। মাত্র ৩২ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। কুপার কনোলিও (২১) হাত খুলে খেলছিলেন। কিন্তু মাঝপথে শার্দূল ঠাকুরের দাপটে ধস নামে পাঞ্জাবের মিডল অর্ডারে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (৪), সূর্যংশ শেডগে (৮) এবং শশাঙ্ক সিং (২), শার্দূলের বিষাক্ত বোলিংয়ের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারেননি। একসময় মনে হচ্ছিল পাঞ্জাব হয়তো ১৫০-ও পেরোবে না। কিন্তু শেষবেলায় আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ১৭ বলে ৩৮ রানের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০০/৮ স্কোর খাড়া করে পাঞ্জাব। মুম্বইয়ের হয়ে ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার শার্দূল। জোড়া উইকেট দীপক চাহারের।

২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বই শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিল। ওপেনার রায়ান রিকেলটন মাত্র ২৩ বলে খেললেন ৪৮ রানের ইনিংস। উইল জ্যাকসও ২৫০ স্ট্রাইক রেটে ১০ বলে ২৫ রান করে মাঠ ছাড়েন। তবে আসল কাজটা করলেন তিলক ভার্মা। মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস খেলে পাঞ্জাব বোলারদের শাসন করলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল ২২৭-এর উপরে! শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান এক বল বাকি থাকতেই তুলে নেয় মুম্বই (২০৫/৪)। পাঞ্জাবের হয়ে ওমরজাই ২টি উইকেট নিলেও জ্যাভিয়ার বার্টলেট ৩.৫ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে খলনায়ক হয়ে রইলেন।

Advertisement

তবে ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় থাকল একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরান সিং আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ‘আনক্যাপড’ ওপেনিং জুটি হিসেবে ১০০০ পার্টনারশিপ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। অন্যদিকে ম্যাচের শেষদিকে ডিআরএস (DRS) নিয়ে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়। অভিজ্ঞ রবিচন্দ্রন অশ্বিন ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘এই নিয়ম দ্রুত বদলানো উচিত।’ ধরমশালার মনোরম আবহাওয়ায় ম্যাচটি উপভোগ্য হলেও আম্পায়ারিং ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ফের একবার টুর্নামেন্টের গায়ে কলঙ্ক লেপে দিল।

 

POST A COMMENT
Advertisement