রশিদ খান (ফাইল ছবি)Rashid Khan Citizenship Change Offer: ক্রিকেট মাঠে তাঁর আঙুলের জাদুতে কুপোকাত হন বিশ্বের তাবড় ব্যাটাররা। কিন্তু মাঠের বাইরের লড়াইয়েও যে তিনি অটল পাহাড়ের মতো, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন রশিদ খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আফগান এই লেগ-স্পিনার যে তথ্য ফাঁস করেছেন, তা শুনে স্তম্ভিত অনুরাগীরা। রশিদ জানিয়েছেন, আইপিএল চলাকালীনই তাঁর কাছে এসেছিল এক অবিশ্বাস্য প্রস্তাব। অফারটি ছিল অন্য একটি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার। অর্থাৎ নিজের দেশ আফগানিস্তান ছেড়ে অন্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার টোপ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কোটি কোটি টাকার হাতছানি আর নাগরিকত্বের প্রলোভন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন এই তারকা স্পিনার।
রশিদের দাবি, আইপিএলে খেলার সময় একটি নির্দিষ্ট দেশ (নাম গোপন রেখে) তাঁকে সরাসরি প্রস্তাব দেয় যেন তিনি নিজের নাগরিকত্ব বদলে ফেলেন। কেন এমন প্রস্তাব? এর পেছনে ছিল ব্যবসায়িক ও কৌশলগত অঙ্ক। আইপিএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট কোটা থাকে। রশিদ যদি সেই দেশের নাগরিকত্ব নিতেন, তবে তিনি আইপিএলে বিদেশি নয় বরং এশীয় বা অন্য ক্যাটাগরিতে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য হতেন। এতে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটির দল গোছাতে অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু রশিদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের জন্মভূমি আফগানিস্তানের পরিচয় বিসর্জন দিয়ে কোনও বৈভবই তাঁর কাছে কাম্য নয়।
সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে রশিদ বলেন, "আফগানিস্তান আমার পরিচয়, আমার অস্তিত্ব। এই দেশের হয়ে মাঠে নামার গর্ব অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা চলে না।" তিনি আরও যোগ করেন, আফগানিস্তানের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি দেশে ক্রিকেটই মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। সেই দেশের মানুষের আশা-ভরসাকে বিক্রি করে অন্য দেশের পাসপোর্ট পকেটে পোরা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। রশিদের এই স্বীকারোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে সময় নেয়নি। নেটিজেনরা বলছেন, টাকার নেশায় যখন অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দল ছেড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বেছে নিচ্ছেন, সেখানে রশিদের এই দেশপ্রেম শিক্ষণীয়।
বর্তমানে আইপিএলে নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে একের পর এক ম্যাচে ম্য়াচ জেতানো পারফরম্যান্স করছেন রশিদ। কিন্তু এই ব্যক্তিগত সাফল্যের আড়ালে যে এমন এক পর্দার পেছনের রাজনীতি চলছিল, তা জানতেন না অনেকেই। ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, রশিদকে দলে নেওয়ার জন্য অনেক দেশই মুখিয়ে থাকে। তাঁকে যদি নিজেদের দেশের নাগরিক বানিয়ে নেওয়া যায়, তবে সেই দেশের বোলিং আক্রমণ এক ধাক্কায় অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিন্তু রশিদ তাঁর লক্ষ্যে অবিচল—যতদিন ক্রিকেট খেলবেন, আফগানিস্তানের পতাকাই থাকবে তাঁর হৃদয়ে।
এই বিস্ফোরক ফাঁসের পর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপর নজরদারি এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের এভাবে টোপ দেওয়ার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে সমস্ত বিতর্ক ছাপিয়ে এখন শিরোনামে কেবল রশিদের দেশাত্মবোধ। যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত দেশ থেকে উঠে এসে বিশ্ব ক্রিকেটের শিখরে পৌঁছানো এই যুবক বুঝিয়ে দিলেন, কেন তিনি কেবল একজন দুর্দান্ত স্পিনার নন, বরং একজন খাঁটি দেশপ্রেমিকও বটে। তাঁর এই মন্তব্য এখন ক্রিকেট গ্যালারি থেকে ড্রেসিংরুম—সর্বত্রই আলোচনার তুঙ্গে।