SRH vs MI IPL 2026: ম্লান রিকেলটনের সেঞ্চুরি, ট্রাভিষেকদের দাপটে খেই হারালেন বুমরা-বোল্টরা; রেকর্ড জয় কামিন্সদের

SRH vs MI IPL 2026: মুম্বইয়ের হারের পিছনে সবচেয়ে বড় খলনায়ক হয়ে থাকল তাদের ‘ফিল্ডিং’। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক ক্যাচ মিস করার মাসুল দিতে হলো হার্দিক পান্ডিয়াদের। জীবনদান পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন হায়দরাবাদের ব্যাটাররা। ক্যাচ মিস যে ম্যাচ মিস, এই পুরনো প্রবাদটিই যেন বারবার মনে করিয়ে দিল ওয়াংখেড়ের গ্যালারি।

Advertisement
ম্লান রিকেলটনের সেঞ্চুরি, ট্রাভিষেকদের দাপটে খেই হারালেন বুমরা-বোল্টরা; রেকর্ড জয় কামিন্সদেরSRH's Heinrich Klaasen (L) and Travis Head in frame. (Screenshot-X): মুম্বইকে রেকর্ড রান তাড়ায় হারাল হায়দরাবাদ

SRH vs MI IPL 2026: এ যেন রূপকথার লড়াই! বুধবার রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল এক অবিশ্বাস্য ক্রিকেটের। রায়ান রিকেলটনের বিধ্বংসী শতরানও শেষরক্ষা করতে পারল না। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ঘরের মাঠে তাঁদেরই মুখের গ্রাস কেড়ে নিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করে রেকর্ড জয় ছিনিয়ে নিলেন ট্রাভিস হেড-অভিষেক শর্মারা।

এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মুম্বইয়ের হয়ে ব্যাট হাতে আগুন ঝরিয়েছিলেন রায়ান রিকেলটন। তাঁর সেঞ্চুরি যখন মুম্বইকে রানের পাহাড়ে বসিয়ে দিয়েছিল, তখন কে জানত ভাগ্যের চাকা এভাবে ঘুরে যাবে! কিন্তু ক্রিকেটে যে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তা আরও একবার প্রমাণ করল হায়দরাবাদ। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই হায়দরাবাদের ওপেনাররা মেজাজে ছিলেন। ট্রাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মার জুটি মুম্বইয়ের বোলিং লাইন-আপকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয়। বোলারদের ছন্দ নষ্ট করতে বিন্দুমাত্র সময় নেননি তাঁরা। বিশেষ করে ট্রেন্ট বোল্টের মতো অভিজ্ঞ বোলারও এদিন দেদার মার খেলেন।

মুম্বইয়ের হারের পিছনে সবচেয়ে বড় খলনায়ক হয়ে থাকল তাদের ‘ফিল্ডিং’। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক ক্যাচ মিস করার মাসুল দিতে হলো হার্দিক পান্ডিয়াদের। জীবনদান পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন হায়দরাবাদের ব্যাটাররা। ক্যাচ মিস যে ম্যাচ মিস, এই পুরনো প্রবাদটিই যেন বারবার মনে করিয়ে দিল ওয়াংখেড়ের গ্যালারি। মুম্বই শিবিরের বড় ভরসা ছিল জসপ্রীত বুমরা। কিন্তু এদিন ভাগ্য দেবী তাঁর দিকে মুখ ফিরে তাকাননি। বিপক্ষকে রুখতে বুমরা কার্যত কোনও সুবিধাই করতে পারলেন না। উইকেট তো দূরস্থান, রানের গতি কমাতেও হিমশিম খেলেন তিনি। ফলে লড়াইটা কার্যত একতরফা হয়ে দাঁড়ায়।

মাঝপথে হাল ধরেন হেনরিক ক্লাসেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসা একের পর এক ছক্কা গ্যালারিতে শুধু গর্জন বাড়িয়েছে। ক্লাসেনের সঙ্গে সলিলের দুরন্ত ব্যাটিং হায়দরাবাদকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। সলিলের দায়িত্বশীল ইনিংসে ছিল আভিজাত্য আর পাওয়ারের অদ্ভুত সংমিশ্রণ। মুম্বইয়ের বোলাররা যখন লাইন-লেংথ হারিয়ে খেই হারিয়েছেন, তখন হায়দরাবাদি ব্যাটাররা ডুগডুগি বাজিয়ে রান তুলেছেন। বোল্ট বা বুমরা, কাউকেই রেয়াত করেননি তাঁরা। পরিসংখ্যান বলছে, ওয়াংখেড়ের ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা রান তাড়া করার রেকর্ড।

Advertisement

খেলার শেষে মাঠের পরিবেশ ছিল দেখার মতো। এক প্রান্তে যখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ক্রিকেট দফতর হারের ব্যবচ্ছেদ করতে ব্যস্ত, অন্য প্রান্তে তখন কমলা বাহিনীর উৎসবে মত্ত নীল নগরী। রিকেলটনের একক লড়াই যে স্রেফ দলগত ব্যর্থতায় জলে যাবে, তা হয়তো কোনও মুম্বই সমর্থক ভাবেননি।

 

POST A COMMENT
Advertisement