রেকর্ড গড়ে হাফ সেঞ্চুরির পর উরভিল প্যাটেলUrvil Patel Fastest IPL Fifty: আইপিএলের ইতিহাসে মহেন্দ্র সিং ধোনির গড়ে ওঠা চিপক স্টেডিয়াম রবিবার সাক্ষী থাকল এক অতিমানবিক ইনিংসের। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ২০৪ রানের পাহাড় প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে যা করলেন উরভিল প্যাটেল, তা ক্রিকেট ইতিহাসে রূপকথার মতো থেকে যাবে। মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে আইপিএল ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে যশস্বী জয়সওয়ালের পাশে নাম লেখালেন গুজরাতের এই মারকুটে ব্যাটার। উরভিলের ব্যাটে এদিন যেন আগুনের ফুলকি ছুটছিল, যার তাপে কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গেল লখনউয়ের বোলিং ব্রিগেড।
এদিন উরভিলের উইলো যখন গর্জে উঠছে, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের পলক ফেলার উপায় ছিল না। ২২ বল ক্রিজে থেকে ৬৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। বাউন্ডারির ধার দিয়ে মাত্র ২টি চার মারলেও, তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি বিশাল ছক্কা। যার মধ্যে টানা পাঁচটি ছক্কা মেরে তিনি স্টেডিয়ামের মেজাজ এক নিমেষে বদলে দেন। ২৮২-র ওপর স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা উরভিলের এই ইনিংসই চেন্নাইয়ের জয়ের ভিত মজবুত করে দেয়। শেষ পর্যন্ত শাহবাজ আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে যখন তিনি ডাগআউটে ফিরছেন, তখন পুরো চিপক স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে কুর্নিশ (Standing Ovation) জানাচ্ছে।
আবেগঘন সেলিব্রেশন ও বাবার স্মৃতি
তবে শুধু বিধ্বংসী ব্যাটিং নয়, হাফ-সেঞ্চুরি করার পর উরভিলের সেলিব্রেশন দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ক্রিকেটপ্রেমীরা। পকেট থেকে একটি চিরকুট বের করে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন তিনি। যেখানে লেখা ছিল, “দিস ইজ ফর ইউ পাপা”। নিজের জীবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তিনি তাঁর বাবাকে উৎসর্গ করেন। উরভিলের এই মানবিক দিকটি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা বলছেন, মাঠের লড়াকু উরভিলের অন্তরে যে এক সংবেদনশীল পুত্র লুকিয়ে আছে, এই সেলিব্রেশনই তার বড় প্রমাণ।
কে এই উরভিল প্যাটেল?
গুজরাতের মেহসানায় ১৯৯৮ সালে জন্ম উরভিল মুকেশ প্যাটেলের। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি পরিচিত নাম। একসময় বরোদার হয়ে খেললেও পরে নিজের রাজ্য গুজরাতের হয়েই ঘরোয়া ক্রিকেট মাতান। আইপিএলের আঙিনায় প্রথমে গুজরাত টাইটান্সের ড্রেসিংরুমে থাকলেও তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘোরে চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়ার পর। এর আগে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দ্রুততম শতরান করার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর দখলে। ২০২৬-এর এই ম্যাচটি তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংস হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
যখন উরভিল আউট হন, তখন সিএসকে-র স্কোর ২ উইকেটে ১২৫। হাতে তখনও ছিল ৬৪ বল, জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭৮ রান। শাহবাজের বলে ফ্ল্যাট ব্যাটে মারতে গিয়ে ডিপ কভারে আবেশ খানের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে ততক্ষণে যা ক্ষতি করার তা তিনি লখনউয়ের করে দিয়ে গিয়েছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উরভিলের এই ‘ফিয়ারলেস’ ব্যাটিং কেবল রান তোলেনি, লখনউয়ের বোলারদের মনোবলও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আইপিএল ২০২৬-এর অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটিংয়ের প্রদর্শনী হিসেবে এই ইনিংসটি গণ্য হচ্ছে।
ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া ও বিশেষজ্ঞ মহলে চর্চা
ম্যাচ শেষ হতেই নেটপাড়ায় ট্রেন্ডিং ‘উরভিল প্যাটেল’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শট সিলেকশন এবং পাওয়ার হিটিং সচরাচর দেখা যায় না। চেন্নাইয়ের হয়ে দ্রুততম অর্ধশতরানের মালিক হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন কেন ধোনি-বাহিনী তাঁর ওপর ভরসা রেখেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যানরা ইতিমধ্যেই উরভিলকে আইপিএলের বড় হিটারদের সারিতে বসাতে শুরু করেছেন। তাঁর নির্ভীক ব্যাটিং শৈলী আগামীর বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে হলুদ জার্সিধারীদের।