T 20 World Cup : অভিষেকের ব্যাটে রান নেই, তাহলে কি এবার সুযোগ পাওয়া উচিত সঞ্জুর?

এদিকে একদম ফর্মে নেই টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার অভিষেক শর্মা। তিনি এই বিশ্বকাপে একদম রান পাননি। গত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সামান্য রান করলেও তার আগে পরপর তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন।

Advertisement
অভিষেকের ব্যাটে রান নেই, তাহলে কি এবার সুযোগ পাওয়া উচিত সঞ্জুর? কে সুযোগ পাবেন দলে ?
হাইলাইটস
  • টি ২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে চাপে টিম ইন্ডিয়া
  • এদিকে একদম ফর্মে নেই টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার অভিষেক শর্মা

টি ২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে চাপে টিম ইন্ডিয়া। সূর্যকুমার যাদবদের এখন তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে। সেই দলগুলো কতগুলো ম্যাচ জেতে, রান রেট কেমন থাকে তার উপর নির্ভর করবে ভারতের সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তা।  

এদিকে একদম ফর্মে নেই টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার অভিষেক শর্মা। তিনি এই বিশ্বকাপে একদম রান পাননি। গত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সামান্য রান করলেও তার আগে পরপর তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। ফলে ২৬ তারিখ চেন্নাইয়ের ভারতের প্লেয়িং ইলেভেন কেমন থাকবে সেদিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। 

ক্রিকেট প্রেমীদের মনে প্রশ্ন, সঞ্জু স্যামসনকে কি বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হবে নাকি খারাপ ফর্ম সত্ত্বেও অভিষেক শর্মা খেলবেন। এই ইস্যুতে জোর আলোচনাও শুরু হয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা এই ইস্যুতে দ্বিধা বিভক্ত। 

অভিষেকের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ

টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অভিষেক শর্মা চার ম্যাচে মাত্র ১৫ রান করেছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করা রানই তাঁর একমাত্র উল্লেখযোগ্য অবদান। সুপার-৮ পর্যায়ে টানা তিনটি ‘ডাক’-এর পরও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।

তবে সামগ্রিক টি২০ পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ ম্যাচে ১০৫৬ রান করেছেন অভিষেক, গড় ৩৭.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট ১৯৬.৬৪। তিনি এই সময়ে ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক এবং বর্তমানে আইসিসি টি২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটার।

স্যামসনের দাবি কতটা জোরালো?

সঞ্জু স্যামসন এই বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ২২ রান করেছিলেন। অভিষেকের তখন অসুস্থতা ছিল। তবে ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২১ টি২০ ম্যাচে স্যামসনের রান ২৯০, গড় ১৭.০৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৩। যা খুব একটা আশাব্যাঞ্জক নয়। 

অন্যদিকে দলে সম্প্রতি ফেরা ইশান কিষাণ ৯ ম্যাচে ৩৯১ রান করে দলে নিজের জায়গা কার্যত পাকা করেছেন। তিলক বর্মা, হার্দিক পাণ্ডিয়া, শিবম দুবের মতো ক্রিকেটাররা ভালো রান করছেন। 

Advertisement

টপ অর্ডার ব্যর্থতা ও কৌশলগত সমস্যা

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা। পাওয়ারপ্লে-তেই বারবার চাপে পড়ছে টপ অর্ডার। সহকারী কোচ ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে স্বীকার করেছেন, টপ অর্ডার থেকে ধারাবাহিক রান না আসা এখন কৌশলগত দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৮ মাসের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টিম ম্যানেজমেন্ট একই কম্বিনেশন ধরে রাখতে চেয়েছিল। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে, পুরনো খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা হবে, না কি নতুন খেলোয়াড়দের আনা হবে। 

বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্য 

বর্তমানে ভারতের টপ অর্ডারে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার রয়েছেন, যার সুযোগ নিচ্ছে প্রতিপক্ষ দলগুলো অফ স্পিনারদের দিয়ে। স্যামসন দলে এলে ডানহাতি বিকল্প বাড়বে এবং বোলিং লাইন আপে ভাঙন ধরতে পারে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সেমিফাইনালের সমীকরণ

ভারতের সামনে এখন কার্যত ডু অর ডাই অবস্থা। পরের ম্যাচে জয় পেলে এবং অন্যান্য ম্যাচের ফল অনুকূলে গেলে সেমিফাইনালের দরজা খোলা থাকতে পারে। তবে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা এবং দল নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি কাটাতে না পারলে পথ কঠিনই হবে। ভারত কি প্লেয়িং ইলেভেনে পরিবর্তন আনবে, নাকি আস্থা রাখবে পুরনো কম্বিনেশনে? উত্তর মিলবে চেন্নাইয়ে।
 

POST A COMMENT
Advertisement