বাংলাদেশ ক্রিকেটে গৃহযুদ্ধবাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন গৃহযুদ্ধ। সেই দেশের সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটাররা সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। এমনকী দেশে সমস্ত ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুমকিও দিচ্ছেন।
সেই দেশের ক্রিকেটারদের স্পষ্ট দাবি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর এবং ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলামকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে। নয়তো সমস্ত ধরনের ক্রিকেট থেকে সরে আসবেন তাঁরা। এমনকী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটও বন্ধ রাখা হবে বলে তাঁরা হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
ক্রিকবাজের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অব বাংলদেশের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি একটা অনলাইন প্রেস কনফারেন্স করা হয়। সেখানে খেলোয়ারদের প্রতিনিধিত্বকারী এবং সিনিয়র ক্রিকেটার মহম্মদ মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে মহম্মদ নাজমুল ইসলামের কথাবার্তা সহ্যের সীমা পেরিয়ে গিয়েছে।
কী নিয়ে সমস্যা?
বাংলাদেশের ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নানা মুণির নানা মত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মুখ খোলেন নাজমুল ইসলাম। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, বাংলাদেশ যদি আইসিসি টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ না খেলে তাহলে বোর্ডের পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরও আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। আর বোর্ডের তরফে ক্রিকেটারদের ক্ষতির কোনও দায়িত্ব নেওয়া হবে না।
আর এই বয়ানেই রেগে আগুন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাঁদের সাফ দাবি, এই ধরনের কথা খুবই অপমানজনক। এর জন্য ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।
সিডব্লুসি-এর প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মিঠুন বলেন, 'বোর্ডের ডিরেক্টরের এই ধরনের কথা খুবই অপমানকজনক। আমরা অনেক দিন ধরেই চুপ ছিলাম। তবে এখন সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এটা কোনও একটা কথার জন্য রাগ নয়, বরং মাসের পর মাস বোর্ড যে ধরনের কথা বলে আসছে, এটা তারই প্রতিফলন। যদি নাজমুল ইসলাম বিপিএল থেকে ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে গোটা বাংলাদেশে ক্রিকেট বয়কট করা হবে।'
আর ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ব্যস্ত পড়েছেন। তাদের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানান হয়, 'নাজমুল ইসলামের বক্তব্য বোর্ডের কথা নয়। কোনও অপমানজনক কথার বোর্ড ক্ষমাপ্রার্থী। প্লেয়াররাই বোর্ডের মেরুদণ্ড। তাঁরাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
মাথায় রাখতে হবে এই নাজমুল ইসলামকে নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক। তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে ভারতীয় এজেন্ট বলেছিলেন। তারপর থেকেই শুরু বিতর্ক।
এমন পরিস্থিতিতে সবার চোখ রয়েছে ১৫ জানুয়ারির বিপিএল ম্যাচের দিকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খেলতে নামে কি না, সেটাই এখন দেখার।