টিম ইন্ডিয়ার থিংকট্যাংকGoutam Gambhir: ক্রিকেটের বাইশ গজে আস্ফালন অনেক দেশই করে, কিন্তু সাম্রাজ্য বিস্তার করতে প্রয়োজন হয় এক অদম্য জেদ আর ইস্পাতকঠিন রণকৌশলের। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের রাজকীয় সাফল্যের নেপথ্যে সেই ‘মগজঅস্ত্রটি’র নাম গৌতম গম্ভীর। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ভারত যখন বিশ্বজয়ের উল্লাসে মত্ত, তখন ডাগ-আউটে গম্ভীরের সেই চেনা শান্ত কিন্তু দৃপ্ত চোয়াল বুঝিয়ে দিচ্ছে। এই দাপট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এক পরিকল্পিত আধিপত্যের সূচনা।
নেতৃত্বের নয়া ঘরানা
রাহুল দ্রাবিড় উত্তর যুগে গম্ভীরের হাতে যখন দলের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছিল, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন তাঁর আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে। কিন্তু গম্ভীর প্রমাণ করেছেন, আধুনিক ক্রিকেটে ‘রক্ষণ’ নয়, ‘আক্রমণ’ই শ্রেষ্ঠ আত্মরক্ষা। দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে তিনি শিখিয়েছেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট। ড্রেসিংরুমে তাঁর কড়া অনুশাসন আর মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার রসায়নই আজ ভারতকে বিশ্বসেরার সিংহাসনে বসিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ তুর্কিদের ওপর তাঁর অগাধ ভরসা আজ বড় মঞ্চে সুফল দিচ্ছে।
বিশ্বজয়ের কারিগর
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা মানছেন, গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় দল এখন অনেক বেশি সংহত। ফাইনাল ম্যাচে যখন কিউয়ি ব্যাটাররা পাল্টা লড়াই দিচ্ছিলেন, তখন গম্ভীরের মগজপ্রসূত বোলিং পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গম্ভীর নিজে বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন, কিন্তু তাঁর কোচিংয়ে ভারত যেভাবে গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ট্রফি জিতল, তাতে তাঁকে আধুনিক ক্রিকেটের ‘চাণক্য’ বলতে দ্বিধা করছেন না কেউই। ক্রিকেট মহলের মতে, এই জয় কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের শিলমোহর।