রোহিত শর্মাকে ওয়ান ডের ক্যাপ্টেন্সি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। এমনটাই অভিযোগ ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারির। তাঁর এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগারকরের নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন মনোজ।
গত বছরের অক্টোবরে যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করে, তখন রোহিত শর্মার জায়গায় শুভমান গিলকে ক্যাপ্টেন করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কারণ রোহিত ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এবং২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মনোজ তিওয়ারি ভারতের হয়ে ১২টি ওয়ানডেতে ২৮৭ রান এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ১৫ রান করেছেন। তিওয়ারি স্পোর্টস টুডেকে বলেন, 'অজিত আগারকর একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে সক্ষম। কিন্তু এত বড় সিদ্ধান্ত একা নেওয়া যায় না। পর্দার আড়ালে অনেক কিছু ঘটে। কোচের অবশ্যই এতে অবদান থাকতে হবে।'
রোহিতের উৎসাহ কমে গেছে: মনোজ তিওয়ারি
মনোজ তিওয়ারি সন্দেহ করেন যে রোহিত শর্মাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে নির্বাচক প্যানেলের ছিল। তিওয়ারি বলেন যে গৌতম গম্ভীরের দৃষ্টিভঙ্গি জড়িত থাকতে পারে। তিওয়ারি আরও স্বীকার করেছেন যে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ও য়ানডে ফর্ম্যাটে রোহিত শর্মার আগ্রহ কমে গেছে। তিনি বলেন যে রোহিত আগের মতো প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে না এবং মাঠে তার উৎসাহও কম স্পষ্ট।
মনোজ তিওয়ারি বলেন, 'আমি রোহিতের সঙ্গে খেলেছি। তাকে সরিয়ে দেওয়াটা খুবই অসম্মানজনক মনে হয়েছে। এত ভালো একজন খেলোয়াড়ের সাথে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।' তিওয়ারি রোহিত শর্মার নেতৃত্ব এবং পারফরম্যান্সকে সমর্থন করে বলেন, রোহিত একজন অভিজ্ঞ অধিনায়ক এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও ক্রিকেটীয় যুক্তি ছিল না।
মনোজ তিওয়ারি বলেন, রোহিত শর্মা অধিনায়ক হিসেবে দুটি আইসিসি ট্রফি জিতেছেন। ভারত ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালেও জিততে পারে। তিওয়ারি বিশ্বাস করেন যে রোহিতের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করা ভুল ছিল। ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার পক্ষে খেলা সম্ভব। তিওয়ারি আরও বলেন যে, 'যদি অধিনায়কত্ব একজন তরুণ খেলোয়াড়ের হাতে হস্তান্তর করা হত, তাহলে প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে এবং সম্মানের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়িত করা যেত।'
মনোজ তিওয়ারির অভিযোগের বিষয়ে বিসিসিআই, অজিত আগরকর বা গৌতম গম্ভীরের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি। তবে, তিওয়ারির বক্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট ভক্তরা দ্বিধাবিভক্ত।