পাকিস্তানের সঙ্গে ডাবল গেম বাংলাদেশেরপ্রথমে টি২০ বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা U-টার্ন নিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি পাকিস্তান দল।
আর তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পাকিস্তান বোর্ডের তরফে যেই যেই শর্ত ভারত ম্যাচ খেলার জন্য রাখা হয়েছিল, সেগুলিও মানেনি আইসিসি। উল্ট চাপ তৈরি হয়েছিল। যার ফলে পাকিস্তান খেলতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ ক্রিকেট রাজনীতিতেও ফেল করেছে পাকিস্তান। আর এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের হাতও ছেড়েছে তারা। সামনে এসে গিয়েছে তাদের দ্বিচারিতা।
হুমকি নীতি নেয় পাক বোর্ড
ভারত ম্যাচ না খেলা নিয়ে পুরনো কাঁদুনিই গেয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। সেই বস্তা পঁচা নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথাই বারবার বলে গিয়েছে পাক বোর্ড। সেই দাবিকে সামনে রেখেই ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত ম্যাচ না খেলার হুমকির মাধ্যমে নিজেদের দর বাড়াতে চেয়েছে পাকিস্তান। তাদের তরফ থেকে এটিকে দর কষাকষির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সরাসরি সংঘাত নয়
সরাসরি ভারতের সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই পাক বোর্ডের। তাই তাঁরা বাংলাদেশের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই গুলি চালাতে চেয়েছে। প্রথমত, ভারতে নিরাপত্তা নেই বলে বাংলাদেশ যে দাবি করেছে, তার সমর্থন করে ইসলামাবাদ। এর পরবর্তী সময় বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তেও তারা সহমত জানায়। এমনকী ঢাকার পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ম্যাচ বয়কটেরও নেয় সিদ্ধান্ত। যদিও কিছুদিন যেতেই উলটপূরাণ। U-টার্ন মেরে নিজেরা ম্যাচ খেলবে বলে জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।
আসলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পিছনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান একটা রাজনৈতিক চাল দিয়েছিল। তারা চেষ্টা করেছিল এর মাধ্যমেই আইসিসি এবং বিসিসিআই-এর উপর চাপ তৈরি করতে। যদিও সেটা এখন সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিচারিতা
বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনৈতিক এজেন্ডা সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে যে বয়কট ধুঁয়ো তুলেছিল ইসলামাবাদ, সেখান থেকে তাঁরা ১৮০ ডিগ্রি সরে এসেছে। আর এমনটা করার পরও কোনও যৌথ বিবৃতি তারা দেয়নি।
এখানেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে পাক বোর্ডের অবস্থান। তাঁরা প্রথমে বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছে যুদ্ধতে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হতেই নিজেরা সরে এসেছে। আর ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশ বোর্ড।
মাথায় রাখতে হবে, ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রচুর অর্থ। বিজ্ঞাপন, ব্রডকাস্টিং রাইট, স্পনশরশিপের মতো বিষয়গুলি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই এই ম্যাচ না হলে আইসিসি-এর ক্ষতি হতো। তবে তার থেকে বেশি বিপদে পড়ত পাকিস্তান। তাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ত। পাশাপাশি ক্রিকেট বিশ্বেও নিজেদের প্রভাব হারিয়ে ফেলত তারা।
সামনে চলে এসেছে পাকিস্তানের খেলা
ভারত ম্যাচ বয়কটের নাম করে নিজেদের দাবি সামনে রাখতে চেয়েছিল পাক বোর্ড। আর এই কাজে তারা ঢাল করেছিল বাংলাদেশ বোর্ডকে। যদিও খেলা একটু ঘুরে যেতেই বাংলাদেশকে একা ছেড়ে দেয় পাক বোর্ড। আইসিসি-এর চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তারা আদতে খেলতে বাধ্য হচ্ছে।