
ভারতে ক্রিকেট একটা ধর্ম। অলিগলিতে পাওয়া যায় দুর্দান্ত গলি ক্রিকেটার। আর সেই কারণেই ভারতীয় দলের জার্সি পাওয়া বিরাট কঠিন। তা সে যে ফরম্যাটেই হোক। তবে বৈভব সূর্যবংশী এ সবকিছুর উর্দ্ধে। ১৫ বছর বয়সেই জিতেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। আইপিএল-এ বিশ্বের তাবড় তাবড় বোলারদের পিটিয়ে একাই প্রায় দলকে প্লে অফে নিয়ে গিয়েছেন। এলিমেনেটরে যে ম্যাচ রাজস্থান হেরেছে, সেখানেও রয়েছে তাঁর হাফ সেঞ্চুরি। ফলে তাঁকে ভারতীয় দলে সুযোগ না দিয়ে উপায় ছিল না নির্বাচকদের।
কীভাবে এত কম বয়সে সাফল্য?
বৈভবের ক্রিকেট খেলা শুরু হয় মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। বাবা তাঁর হাতে প্রথম ব্যাট-বল তুলে দিয়েছিলেন। নয় বছর বয়স থেকেই স্থানীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই লাল বলে ক্রিকেট খেলতেন। সঞ্জীবের দাবি, অন্যরা যখন ৫০ রান করার কথা ভাবত, তখন বৈভব সেঞ্চুরি করত। আর সেই সেঞ্চুরির সংখ্যাটা জানলে সকলেই অবাক হবেন। এক একটি মরসুমে এই ওয়ান্ডার কিডের ব্যাট থেওকে আসত ৪০-৫০টি শতরান। ৫০ ওভারের এক ম্যাচে একাই ৩৩২ রান করে তিনি প্রথমবার সবার নজর কেড়েছিলেন।
ছোটবেলায় বৈভবের ক্রিকেট খেলার কথা বলতে গিয়ে তাঁর বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী জানান, ছেলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে তাঁর বিশ্বাস ছিল যে একদিন না একদিন বৈভব দেশের হয়ে খেলবে। তবে এত অল্প বয়সে জাতীয় দলে ডাক পাবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন বৈভব
ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ডেবিউ করার রেকর্ড এতদিন ছিল সচিন তেন্ডুলকরের। বৈভব ভারতের জার্সি গায়ে চাপালেই সেই রেকর্ড ভেঙে যাবে। সঞ্জীব যদিও রেকর্ডকে পাত্তা দিত নারাজ। জানান, 'বৈভব দেশের জন্য ম্যাচ জিতিয়ে দিক, রেকর্ডের চেয়ে দেশের সাফল্যই আমার কাছে বড়।'
ম্যাচের আগে মেডিটেশন করেন বৈভব
বৈভবের ঘনিষ্ঠরা বলেন যে, তিনি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ বোলারদের খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নেটে তিনি শুধু শট অনুশীলনই করেন না, বরং চাপের মুখে প্রতিপক্ষ কী করবে, তাও বোঝার চেষ্টা করেন। প্রায়শই, ম্যাচ শুরুর আগে তিনি স্টাম্পের পেছনে বসে, চোখ বন্ধ করে বোলারদের সম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলো কল্পনা করেন। কোন বলগুলো আক্রমণ করবেন, কোনগুলোকে গুরুত্ব দেবেন এবং কোন ওভারগুলোকে লক্ষ্য করবেন, সে ব্যাপারে তাঁর একটি পরিকল্পনা থাকে।
তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি সঞ্জীবের ছোট্ট টিপস, 'কারও নকল করার চেষ্টা করো না। নিজের মতো করে বড় হওয়ার চেষ্টা করো।' আর সেই চেষ্টাই যে বৈভবকে সকলের থেকে আলাদা করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি যখন আইপিএল-এ জসপ্রীত বুমরা বা জস হ্যাজেলউডদের সম্মান নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলছেন, তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই বয়সে এত বড় বড় বোলারদের বিরুদ্ধে ছক্কা মারার রহস্যটা কী? কিশোর বৈভবের ছোট্ট উত্তর ছিল, 'আমি বোলার দেখি না, বল দেখি।'
ভারতীয় দলে বৈভবের নির্বাচনের খবর পাওয়ার পর তাঁর মা সরাসরি পূজার ঘরে গিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান। ছেলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাঠে বসে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। বিসিসিআই-ও সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।