বিশ্বকাপের নিয়মে বদল বড়সড় বদল পুরুষদের টি টোয়েন্টি ও একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ডের বার্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪ দল নিয়েই আয়োজিত হবে বিশ্বকাপ। তবে 'সুপার সিরিজ' ও 'সুপার-৭' নামে দু’টি স্তরে ভাঙা হয়েছে বিশ্বকাপকে।
আইসিসির দাবি, নতুন ফরম্যাটের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অর্থবহ এবং রোমাঞ্চকর করে তোলা। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের নতুন যোগ্যতা অর্জন (কোয়ালিফিকেশন) পদ্ধতিও অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির জন্য ১৬ দলের একটি নতুন টি-২০ টুর্নামেন্টের প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবার 'সুপার সিরিজ' ও 'সুপার-৭'
আগের মতোই ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১৪টি দল অংশ নেবে, তবে পুরো টুর্নামেন্ট হবে তিন ধাপে।
প্রথম ধাপ: সুপার সিরিজ
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর দল রাউন্ড-রবিন ভিত্তিতে 'সুপার সিরিজ' খেলবে। এই তিন দলের মধ্যে শীর্ষে থাকা দল পরবর্তী পর্বে উঠবে।
দ্বিতীয় ধাপ: গ্রুপ পর্ব
এরপর ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৬টি দল। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ৬টি দল এবং বাকি দুই গ্রুপের মধ্যে সেরা একটি দল 'সুপার-৭'-এ উঠবে।
তৃতীয় ধাপ: সুপার-৭
সাতটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে রাউন্ড-রবিন ভিত্তিতে খেলবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। এরপর প্রথম বনাম চতুর্থ এবং দ্বিতীয় বনাম তৃতীয় সেমিফাইনাল হবে। বিজয়ী দুই দল খেলবে ফাইনাল।
পুরনো ও নতুন ফরম্যাটের পার্থক্য
আগে ১৪টি দলকে দুটি ৭ দলের গ্রুপে ভাগ করা হত। দুই গ্রুপের সেরা তিনটি করে দল 'সুপার-৬'-এ উঠত। এখন 'সুপার-৬'-এর পরিবর্তে আসছে 'সুপার-৭' এবং তার আগে থাকছে নতুন 'সুপার সিরিজ'।
টি-২০ বিশ্বকাপে 'সুপার-১০' ও এলিমিনেটর
২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে উদীয়মান দলগুলির ভালো পারফরম্যান্সের পর আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপেও বড় পরিবর্তন আনছে।
নতুন গ্রুপ পর্ব
আগে ৫টি করে দল নিয়ে ৪টি গ্রুপ ছিল। এবার হবে ৪টি করে দল নিয়ে ৫টি গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল পরের পর্বে উঠবে।
সুপার-১০
আগের 'সুপার-৮'-এর পরিবর্তে এবার 'সুপার-১০'। মোট ১০টি দল দুটি গ্রুপে ভাগ হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৫টি করে দল।
এলিমিনেটর
বাকি ৮টি স্থান পূরণ হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে।
অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির জন্য নতুন টুর্নামেন্ট
আইসিসি ১৬টি অ্যাসোসিয়েট দেশকে নিয়ে একটি নতুন বৈশ্বিক টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাবও সমর্থন করেছে। এটি টি-২০ বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যাতে ছোট দেশগুলিও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পায়। তবে এই টুর্নামেন্ট এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। নভেম্বরে আইসিসির ফিনান্স ও কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স কমিটির অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইসিসির লক্ষ্য কী?
আইসিসির মতে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। যাতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকেই প্রতিটি লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং ছোট দলগুলিও দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পায়। নতুন ফরম্যাটের মাধ্যমে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, উত্তেজনাপূর্ণ এবং প্রতিটি ম্যাচকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।