ড্যারেন সামিপ্লেয়ার হিসেবে ইডেনেই হাতে তুলেছিলেন বিশ্বকাপ। তাই এই শহর খুব স্পেশাল ড্যারেন সামির কাছে। রবিবারের ম্যাচে তিনি কোচ হলেও সামনে ভারতের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ। তাতে কী? মরণ-বাঁচন ম্যাচে ভারতীয় দলকেই পাল্টা চাপে রাখার চেষ্টা ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচের। তাঁরা তৈরি বলেও জানিয়ে দিলেন স্যামি।
নিজের ঘড়ির দিকে চোখ রেখে স্যামি বলে গেলেন, 'আর ২৬ ঘণ্টা বাকি। কাল ম্যাচ ক'টায়? সন্ধ্যা সাতটায় না? কাল তাহলে শুরু হচ্ছে লাস্ট ড্যান্স! কে এই ড্যান্সে জেতে সেটাই দেখার।' ড্যারেন স্যামি কিন্তু ভারতকে হারিয়ে কীভাবে উৎসব করবেন সেটাও ভেবে রেখেছেন। বলছেন, 'ভারতকে হারাতে পারলে আমরা উৎসব তো করবই। তবে কোন গান চালিয়ে নাচব, তা এখনও স্থির করিমনি। উদযাপন তো চলবেই। আমাদের মতো করেই উৎসব করব, উদযাপনে মেতে উঠব। খেলা হবে, তার পরে নাচও হবে।'
দশ বছর আগের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়েই ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। রবিবার ভারতকে থামাতে পারলে মিলে যাবে সেমিফাইনালের ছাড়পত্র। স্যামি বলছেন, 'সেবারের ভারত আর এই ভারত এক নয়। কোনও এক বা দু'জন ভারতীয় ক্রিকেটারের কথা আলাদা করে বলা সম্ভব নয়। পুরো এগারো জনই তো ডেঞ্জারাস। দলটাই ডেঞ্জারাস।'
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ইডেনে হওয়া মানেই আলাদা উত্তেজনা। সে কথা মনে করিয়ে দিলেন স্যামি। 'ইডেন গার্ডেন্সে-কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুবই জনপ্রিয়। এখনও এই শহরের মানুষের চোখে ভাসে স্যর ভিভ, ক্লাইভ লয়েডের খেলা। এই সব কিংবদন্তিদের ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা বীজ বুনে গিয়েছিলেন, তার সুফল আমরা পাচ্ছি এখন। হোটেলে, রাস্তায় সবাই আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলছেন, বেস্ট অফ লাক। আমরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করছি, যা বলছেন, সেটা কি মনের থেকে বলছেন?' রসিকতা স্যামির।
পরপর দুই ম্যাচ হেরে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ম্যাচ জিততে পারলেই পাওয়া যাবে সেমিফাইনালের টিকিট। ক্রিকেটার হিসেবে ২টি টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন। এবার কি কোচ হিসেবেও কাপ হাতে তুলবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা? সেটাই দেখার।