সঞ্জু স্যামসনরবিবার ইডেন গার্ডেনে দারুণ ছন্দে সঞ্জু স্যামসন। ১৯৫ রান তাড়া করতে নেমে একাই ৯৭ রান করে ফেলেন উইকেটকিপার ব্যাটার। বিশ্বকাপে প্রথম দলে থাকা নিয়ে সন্দেহ ছিল। তবে সব সমালোচনার জবাব দিলেন। শেষদিকে হার্দিক আউট হয়ে গেলেও, শিবম দুবেকে মিয়ে ভারতকে জয়ের দিকে নিয়ে গেলেন। ৫ উইকেটে জিতল ভারত।
ভারতের ইনিংস
১৯৬ রানের জবাবে, সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার জুটি ভাল শুরু করে। তবে, তৃতীয় ওভারের শেষ বলে অভিষেক মাত্র ১০ রান করে উইকেট হারান। এরপর পঞ্চম ওভারে মাত্র ১০ রান করে ঈশান কিষাণ উইকেট হারান। ছয় ওভারের পর অর্থাৎ পাওয়ার প্লের পর, ভারতের স্কোর ছিল ৫৩-২। তবে, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং সঞ্জু স্যামসন-এর মধ্যে ভাল জুটি গড়ে ওঠে। দুজনেই দ্রুত রান করতে থাকেন। তাও ঝুঁকিমুক্ত শট খেলে। এদিকে, সঞ্জু স্যামসন মাত্র ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন। দশম ওভারে ভারতের স্কোর ১০০-এর কাছাকাছি নিয়ে যান।
সেই সময়ই আউট হন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব। তবে তিলক ভর্মা সেই চাপটা একবারও পড়তে দেননি দলের উপর। এসেই বড় শট খেলতে থাকেন। পাল্টা চাপ বাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উপর। তাঁর সঙ্গে সেট হয়ে যাওয়া সঞ্জু থাকায় ঝুঁকি নিচ্ছিলেন বাঁ হাতি ব্যাটার। তবে ১৫ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিলক। হার্দিকের সামনে সেট হওয়ার সময় সেভাবে ছিল না। সঞ্জুই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ওভারের মাঝে তাঁর বাউন্ডারি গুলো ভারতকে অক্সিজেন দিচ্ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং শুরু করে শাই হোপ এবং রোস্টন চেজকে নিয়ে। দুজনেই সাবধানে ইনিংস শুরু করেছিলেন। পঞ্চম ওভারে বুমরা বল করতে আসেন। কিন্তু অভিষেক শর্মা একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। ছয় ওভার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৪৫-০। নবম ওভারে বরুণ চক্রবর্তী, শাই হোপকে বোল্ড করে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। হোপ ৩৩ বলে ৩২ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ধাক্কা খায় ৬৮ রানে। দশ ওভার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৮২-১।
এরপর ১২তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন সেই বুমরা। বুঝিয়ে দেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা। ১০২ রানের স্কোর থাকাকালীন বুমরা, হেটমায়ারকে আউট করেন। হেটমায়ার ১২ বলে ২৭ রান করে ফিরে যান ডাগ আউটে। একই ওভারে বুমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও একটি ধাক্কা দেন, চেজকে আউট করেন। চেজ ৪০ রান করেন। এরপর, ১৫তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া রাদারফোর্ডকে আউট করেন, যার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের চতুর্থ উইকেট হারায়। রাদারফোর্ড মাত্র ১৪ রান করতে পারেন।
ভারত (প্লেয়িং ইলেভেন): সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশান, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক ভার্মা, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, আরশদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, জাসপ্রিত বুমরা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (খেলোয়াড় একাদশ): শাই হোপ, রোস্টন চেজ, শিমরন হেটমায়ার, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফেন রাদারফোর্ড, রোমারিও শেফার্ড, জেসন হোল্ডার, ম্যাথু ফোর্ড, আকিল হোসেন, গুদাকেশ মতি, শামার জোসেফ।