চিপকের পিচচিপকে বৃহস্পতিবার মরণ বাঁচন ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও জিম্বাবোয়ে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাজেভাবে হারের পর ভারতের সামনে সমস্যা আরও বাড়িয়েছে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় জয়। টিম ইন্ডিয়াকে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলতে হবে। ফলে এরকম ম্যাচের পিচ কেমন থাকবে তা নিয়ে কৌতূহল থাকাটা স্বাভাবিক।
পিচে কারা বেশি সুবিধা পাবেন?
চিপক সাধারণত স্পিনারদের সাহায্য করলেও, এ বার অবশ্য অন্য ছবি। দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠ ধীরগতির উইকেট ও টার্নের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু চলতি টুর্নামেন্টে এখানকার পিচ এ বার ব্যাটিং স্বর্গে পরিণত হয়েছে। বল ব্যাটে ভালো ভাবে আসছে, বাউন্সও তুলনামূলক ভাবে সমান। পেসাররা তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না, উইকেট তুলতে বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। স্পিনারদের জন্যও আগের মতো অতটা টার্ন মিলছে না।
সেমিফাইনালের টিকিট সামনে রেখে ভারত এখন কোন কম্বিনেশন বেছে নেয়, সেটাই দেখার। অতিরিক্ত পেসার না কি বাড়তি স্পিনার— নাকি ব্যাটিং গভীরতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তই হয়তো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
শিশির বড় ফ্যাক্টর
শিশির এবারের বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলেছে। তাই তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (TNCA) আগে থেকেই শিশিরের জন্য ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। টুর্নামেন্টের আগে চিপকের আউটফিল্ড নতুন করে বসানোর সময় তারা আমেরিকা থেকে ‘ডিউ কিউর’ নামে একটি বিশেষ রাসায়নিক মিয়ে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গ্রাউন্ডস্টাফ দু’দিন ধরে রাসায়নিকটি জলের সঙ্গে মিশিয়ে আউটফিল্ডে স্প্রে করেছে। স্প্রে করার কাজটি নির্দিষ্ট মাপ ও অনুপাতে করা হয়েছে, যাতে ঘাসের কোনও ক্ষতি না হয় কিন্তু কার্যকারিতা বজায় থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেলেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে ম্যাচে শিশির প্রভাব না ফেলে। সূত্রের দাবি, একবার ‘ডিউ কিউর’ স্প্রে করলে ঘাসের পাতায় আর্দ্রতা জমতে পারে না। ভিজলেই তা শুষে নেয় এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়।
মাঠকর্মীদের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে ফিল্ডিং করার সময় বল হাত থেকে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে, বোলাররাও গ্রিপ নিয়ে সমস্যায় পড়বেন না। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময়ে শিশির বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে— সেই আশঙ্কা কমাতেই এই বাড়তি উদ্যোগ। সব মিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চিপকের আউটফিল্ডকে আদর্শ অবস্থায় রাখতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না আয়োজক সংস্থা।