হারল টিম ইন্ডিয়াসুপার এইটের প্রথম ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়ল ভারত।রান পেলেন না শিবম দুবে ছাড়া কোনও ব্যাটারই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অসহায় আত্মসমর্পণ টিম ইন্ডিয়ার।
ভারতের ইনিংস
১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে টিম ইন্ডিয়ার শুরুটা ছিল খুবই খারাপ। প্রথম ওভারে কোনও রান না করেই আউট হয়ে যান ইশান কিষাণ। এরপর পরের ওভারেই জ্যানসেন তিলক ডার্মাকে আউট করেন। সূর্য ও অভিষেকের কাছ থেকে বড় জুটি আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু অভিষেক আবারও হতাশ করেন। পঞ্চম ওভারে জ্যানসেন অভিষেককে আউট করেন। অভিষেক মাত্র ১৫ রান করেছিলেন। ছয় ওভার পর ভারতের স্কোর ছিল ৩১-৩। এরপর অষ্টম ওভারে মাত্র ১১ রান করে আউট হন ও য়াশিংটন সুন্দর। নবম ওভারে ভারত ৫০ রানের গণ্ডি পার করে।
১০ম ওভারে ভারত বড় ধাক্কা খায় যখন ৫১ রানে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পড়ে যান। সূর্য ২২ বলে মাত্র ১৮ রান করেন। ১০ ওভার পর ভারতের স্কোর ৫৭-৫।১৫তম ওভারে কেশব মহারাজ প্রথমে হার্দিককে এবং তারপর রিঙ্কু সিংকে আউট করেন। হার্দিক ১৮ রান করেন, কিন্তু রিন্তু তার খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। একই ওভারে কেশব অর্শদীপকেও আউট করেন। অর্থাৎ মহারাজ এক ওভারে তিনটি উইকেট নেন।
শিবম দুবে ৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। কিন্তু টিম ইন্ডিয়া ১৯তম ওভারে ১১১ রানে অল আউট হয়ে যায়। এই পরাজয়ের ফলে ভারতের রান রেট-৩.৮০-তে নেমে এসেছে। এর অর্থ হল ভারতকে পরবর্তী দুটি ম্যাচ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জিততে হবে এবং প্রার্থনা করতে হবে যে অন্যান্য দলগুলির রান রেট যেন এর চেয়ে ভালো না হয়। এর অর্থ হল এই পরাজয়ের ফলো ভারতের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর আশা মারাত্মকভাবে খুঁকছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে জ্যানসেন চারটি উইকেট নেন, লুঙ্গি তিনটি এবং বোশ দুটি উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস শুরু করে ডি কক এবং মার্করামকে নিয়ে। তবে, দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহ ডি কককে বোল্ড করেন। ডি কক মাত্র ৬ রান করেন। এরপরের ওভারেই আরশদীপ মার্করামকে আউট করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে মাত্র ১২ রান থাকে। তারপরও বুমরাহর তাণ্ডব চলতে থাকে। বুমরাহ তার দ্বিতীয় ওভারে এবং ইনিংসের চতুর্থ ওভারে রায়ান রিকেলটনকে আউট করেন। রিকেলটন মাত্র ৭ রান করেন। ছয় ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৪১/৩।
কিন্তু এর পরে, ডিওয়াল্ড ব্রেন্ডিস এবং ডেভিড মিলারের মধ্যে একটি ভালো জুটি গড়ে ওঠে। ১৩তম ওভারে শিবম দুবে ব্রেভিসের উইকেট নেওয়ার পর এই জুটি ভেঙে যায়। ব্রেভিস মাত্র ২৯ বলে ৪৫ রান করেন। তার এবং মিলারের মধ্যে ৯৭রানের জুটি গড়ে ওঠে। কিন্তু এর পরে, মিলার থামেননি। কিন্তু ১৬তম ওভারে, বরুণ দক্ষিণ আফ্রিকাকে পঞ্চম ধাক্কা দেন যখন তিনি ডেভিড মিলারের উইকেট নেন। মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন। এর পরে, আর্শদীপ ১৮তম ওভারে জ্যানসেনের উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা (প্লেয়িং ইলেভেন): এইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), রায়ান রিকেলটন, ডিওয়াল্ড ব্রুইস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টারস, মার্কো জানসেন, করবিন বোশ, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি।
ভারত (প্লেয়িং ইলেভেন): অভিষেক শর্মা, ইশান কিশান, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ড্য, শিবম দুবে, রিঙ্কু সিং, ওয়াশিংটন সুন্দর, আরশদীপ সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী।