Suryakumar Yadavশেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাল পাকিস্তান। আগের বয়কট সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলতে রাজি হল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।
সূত্রের খবর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট বোর্ড, প্রশাসনিক মহল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেই বৈঠকেই ম্যাচ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মেলে।
জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে অনুরোধ আসার পরই ইসলামাবাদে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হয়। এর পর প্রধানমন্ত্রী ও PCB চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বৈঠকে সিদ্ধান্ত পাকা হয়।
এই ম্যাচটি গ্রুপ ‘এ’-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। এই গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে আমেরিকা, নামিবিয়া এবং নেদারল্যান্ডস। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি হবে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৫ এশিয়া কাপের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল।
এর আগে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে। তবে পাকিস্তানের এই ইউ-টার্নে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান হল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্রিকেটীয় দিক থেকেই নয়, কূটনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এখন সব নজর ১৫ ফেব্রুয়ারির মহারণের দিকে, যেখানে ফের মাঠে নামছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ।
অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করলেও, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের উপর আর্থিক, প্রশাসনিক বা ক্রীড়াগত কোনও জরিমানা চাপানো হবে না।
আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। বৈঠকে বোর্ডগুলির মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ঠিক হয়, ভারতে ম্যাচ খেলতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ যে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল, তার জন্য কোনও শাস্তি আরোপ করা হবে না।