
Vaibhav Suryavanshi: জিম্বাবোয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আইসিসি মেন্স অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন বিহারের ১৪ বছরের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর দুর্ধর্ষ শতরানের দাপটেই বিশ্বকাপ ট্রফি উঠল ভারতের হাতে।
ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারত তোলে ৪১১ রান। সেই ইনিংসের কেন্দ্রে ছিলেন বৈভব। ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসে ছিল ১৫টি ছক্কা ও ১৫টি চার। শুরুটা ধীরগতির হলেও একবার গিয়ার বদলাতেই ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েন এই কিশোর ব্যাটার।
প্রথম ২৪ বলে মাত্র ২৪ রান করার পর পরের ৫৬ বলে ১৫১ রান করেন বৈভব। ম্যাচের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন তিনি। সেমিফাইনালেও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩১১ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩ বলে ৬৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন বৈভব।
ম্যাচ জেতার পর বাবাকে ফোন করে বিহারি স্টাইলে ‘পাপা প্রণাম’ বলতেই আবেগে ভেসে যান বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী। তিনি বলেন, “এখন আনন্দ করুক, কিন্তু এটা তো শুরু মাত্র। টেস্ট ক্রিকেট না খেললে বড় ক্রিকেটার বলা যায় না।” ছেলেকে মাটিতে পা রেখে পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পাটনার কোচ মনীশ ওঝার কথায়, বৈভব একেবারেই আলাদা মানসিকতার ক্রিকেটার। “ও এক-দুই রান নিয়ে খেলতে বিশ্বাসী নয়। ও শুধু জিততে চায়।” তাঁর মতে, বৈভব বিহারে খেলাধুলোর প্রতি মানসিকতাই বদলে দিয়েছে। এখন অনেক অভিভাবকই চান তাঁদের সন্তান ছোট থেকেই ক্রিকেট প্রশিক্ষণ পাক।
ইতিমধ্যেই আইপিএলেও নজর কেড়েছেন বৈভব। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে অভিষেকে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানো থেকে শুরু করে ৩৫ বলে শতরান, সব মিলিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে এই কিশোর। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫২ বলে শতরান কিংবা এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে ৩২ বলে সেঞ্চুরি তাঁর প্রতিভার প্রমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিচর্যা পেলে বৈভব সূর্যবংশীই হতে পারেন আগামী দিনের ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা।