
ঈশান কিষাণ সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেন না। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষবার ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে শেষবার নেমেছিলেন উইকেটকিপার ব্যাটার। এতদিন পর সুযোগ পেলেও ৫ বলে ৮ রান করেই ফিরতে হল তাঁকে। চোট পাওয়া তিলক ভর্মার জায়গায় ভরসা খুঁজছিল ভারত। তবে প্রথম ম্যাচে সেই ভরসা দিতে পারলেন না ঈশান।
কীভাবে আউট হলেন ঈশান?
বল মাঠের বাইরে মারা চেষ্টা করছিলেন তিন নম্বরে নামা ঈশান। ১২৩ কিলোমিটার গতির একটি লেংথ বল অফ-স্টাম্পের সামান্য বাইরে ছিল। ঈশান ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে আসছিলেন, এটা পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ ছিল, এবং তিনি যখন বলটিকে ফ্ল্যাট-ব্যাটে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে মারার চেষ্টা করলেন, তখন বলটি তার জন্য বেশ উঁচু হয়ে গিয়েছিল। চ্যাপম্যান ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি। উইকেট পান জেকব ডাফি।
ম্যাচের আগে সূর্য কী বলেছিলেন?
সূর্যকুমার বলেন, 'ঈশান ৩ নম্বরে খেলবে। সে আমাদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ এবং সেই কারণেই তাকে দলে নির্বাচিত করা হয়েছে। সে অনেক দিন ধরে ভারতের হয়ে খেলেনি, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফর্ম্যান্স দুর্দান্ত। এক বছরেরও বেশি সময় পর সে সুযোগ পাচ্ছে, এবং সে এটির যোগ্য।' তিনি আরও বলেন, 'যদি এটি ৪র্থ বা ৫ম পজিশন হত, তাহলে পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিলককে পাওয়া যাচ্ছে না, এবং আমার মনে হয় ৩য় পজিশনের জন্য ঈশানই সেরা বিকল্প।'
ঈশানের দারুণ প্রত্যাবর্তন
ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফর্মেন্স দিয়ে নির্বাচকদের মুগ্ধ করেন ঈশান কিষাণ। ঝাড়খণ্ডের প্রথম সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি (SMAT) শিরোপা জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টুর্নামেন্টে ১০ ইনিংসে ৫১৭ রান করেন ঈশান, গড়ে ৫৭.৪৪ এবং স্ট্রাইক রেট ১৯৭-এর বেশি। হরিয়ানার বিরুদ্ধে ফাইনালে তিনি মাত্র ৪৯ বলে ১০১ রান করেন।
ঝাড়খণ্ডের অধিনায়ক হিসেবে, ঈশান দলকে ২৬২/৩ এর বিশাল সংগ্রহে নেতৃত্ব দেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার এবং ১০টি ছক্কা, যার ফলে তিনি ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান। ঝাড়খণ্ড ৬৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয়। এই পারফরম্যান্সের পর, নির্বাচকরা তাকে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য শুভমান গিলের আগে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর ঈশান বিজয় হাজারে ট্রফিতে দারুণ ফর্ম অব্যাহত রাখেন, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন।