ভারত ও পাকিস্তানএশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে বড় বিতর্কের বিষয় ছিল, হাত না মেলানো। ফের রবিবার দুই দল টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে চলেছে। এই ম্যাচ বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান। পরে তারা তিনটি শর্ত দেয়, যার মধ্যে ছিল ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে হাত মেলানোর শর্ত। সেই শর্ত মেনে ভারতের ক্রিকেটাররা পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলান কিনা সেতাই দেখার।
কেন হাত মেলায় না দুই দল?
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা আর করমর্দন করেনি। এখন, কয়েকদিনের উত্তেজনা, নেপথ্য আলোচনা এবং রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর, পাকিস্তান ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়েছে। বিতর্ক চলছে করমর্দন হবে কিনা তা নিয়ে।
এবারে কী হবে?
সূত্রের খবর, ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হাত মেলাবেন না। গত বছরের এশিয়া কাপ থেকেই শুরু হয়েছিল এই ঘটনা। যখন ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানকে হারানোর পর করমর্দন না করেই মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সেই সময় এই সিদ্ধান্তটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল, কিন্তু এটা কোনও বিছিন্ন ঘটনা ছিল না। ভারত ও পাকিস্তান সেই টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল এবং দুটি দলই কোনও ম্যাচের পরে হাত মেলায়নি। তাছাড়া, ভারতীয় দল এমনকি এসিসি এবং পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির কাছ থেকে এশিয়া কাপ ট্রফি গ্রহণ করতেও চায়নি।
পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলিতেও এই পদ্ধতি অব্যাহত রয়েছে। মহিলা বিশ্বকাপ, এসিসি রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্ট এবং সাম্প্রতিক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুটি দলের মধ্যে কোনও শারীরিক যোগাযোগ হয়নি। এই সময়কাল জুড়ে ভারতীয় বোর্ডের অবস্থান অবিচল রয়েছে। তারা মনে করে যে করমর্দন একটি ঐতিহ্য, বাধ্যবাধকতা নয়। কোনও আইনের অধীনে খেলোয়াড়দের করমর্দন করতে বাধ্য করা যাবে না। ভারত-পাকিস্তানের প্রতিটি ম্যাচেই এই অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে এবং সম্ভবত আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে।
পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি
রবিবার লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতের ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দনের বিষয়টি উত্থাপন করে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে করমর্দনের বিষয়টি পুনঃপ্রবর্তনের আহ্বান জানিয়ে একে 'ক্রীড়াপ্রেমের প্রতীক" বলে অভিহিত করেছেন। তবে, আইসিসি জানিয়েছে যে এটি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।