শনিবার বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জাহিরউদ্দিন স্বপন(Zahir Uddin Swapan) এই ঘোষণা করেন।IPL সম্প্রচার নিয়ে ইউ-টার্ন বাংলাদেশের। মিলল ঢাকার সবুজ সংকেত। শনিবার বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জাহিরউদ্দিন স্বপন(Zahir Uddin Swapan) এই ঘোষণা করেন। বলেন, 'আমাদের সরকার খেলাধুলাকে রাজনীতির সঙ্গে মেশানোর পক্ষপাতী নয়।' তাঁর কথায়, কোনও চ্যানেল আইপিএল দেখাতে চাইলে সরকার তাই নিয়ে ইতিবাচক বিবেচনা করবে। এমনকি ভারতীয় সম্প্রচারকারী Star Sports-এর টেলিকাস্টিংয়েও কোনও বাধা নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেপ্টেম্বরেই ভারত-বাংলাদেশের সিরিজ আছে। আইপিএল টেলিকাস্টিং বন্ধ রাখলে সেই সিরিজের সময়ও জটিলতা হত। সে কথা মাথায় রেখেই আগেভাগে এই সিদ্ধান্ত।
মুস্তাফিজুর বিতর্ক থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত
বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের(Mustafizur Rahman) আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ পড়ার ঘটনায়। এই সিদ্ধান্তের পরই Bangladesh Cricket Board এবং Board of Control for Cricket in India-র সম্পর্কের অবনতি হয় বলে খবর।
তৎকালীন মহম্মদ ইউনূসের(Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমনকি আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য ভারত সফরে যেতেও অস্বীকার করে বাংলাদেশ দল। পরে International Cricket Council বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে খেলানোর অনুমতি দেয়।
এহেন উত্তেজনার পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সরকার বদল, অবস্থানেও বদল
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, আইপিএল সম্প্রচারে তাদের কোনও আপত্তি নেই।
বাংলাদেশ কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের জানিয়েছে, তাদের কাছেও সম্প্রচার বন্ধ রাখাতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ নেই। ফলে Star Sports চাইলে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার করতে পারবে।
বাংলাদেশের এই আচমকা অবস্থান বদলের নেপথ্যে কি কোনও কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে? সেই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে বিশ্লেষকদের। আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেওয়াকে অনেকেই 'ডিপ্লোম্যাটিক সিগন্যাল' হিসেবে দেখছেন।